শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি হলে তুরস্ক যেতে পারেন ট্রাম্প

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আয়োজিত শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলে তুরস্ক সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাতারে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা জানেন, যদি কিছু হয়, আমি শুক্রবারই তুরস্ক যেতে পারি—যদি তা যথার্থ মনে হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বকে মানসিকভাবে সাহায্য করতে পারব। তাই মনে করি, রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে ভালো কিছু করা সম্ভব।’

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এর একদিন আগেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আলোচনায় উপস্থিত হন, তবে তিনিও তুরস্কে যাবেন। তবে রাশিয়া আলোচনায় একজন জুনিয়র প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আলোচনায় অংশ নিতে পুতিনকে প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন, শান্তির প্রতি আন্তরিকতা প্রমাণের জন্য।

পুতিনের অনুপস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বিস্মিত হইনি। আমি না গেলে, উনিও যাবেন না—এটাই স্বাভাবিক।’

প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ৩০ দিনের নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি রাশিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে।

কাতারে বক্তৃতার সময় জেলেনস্কিকে নিয়েও বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘জেলেনস্কি সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সেলসম্যান।’ উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জেলেনস্কির মধ্যে এক উত্তেজনাপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছিল। তিনি মন্তব্য করেন, ‘এটা ছিল যেন বাচ্চার কাছ থেকে টফি কেড়ে নেওয়ার মতো সহজ।’

মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশের সফরের অংশ হিসেবে বর্তমানে ট্রাম্প কাতারে অবস্থান করছেন। সফর শেষে বৃহস্পতিবার তার সংযুক্ত আরব আমিরাত যাওয়ার কথা রয়েছে।

তবে তুরস্ক সফর নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সফরের মাঝে তুরস্ক যাওয়া কঠিন হবে।’ তবে জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইতোমধ্যে তুরস্কে অবস্থান করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি দারুণ কাজ করছেন। মার্কো এখন সেখানে আছেন।’