জার্মান সেনাবাহিনী পুনর্গঠনে হাতে তিন বছর সময়: সামরিক কর্মকর্তা

ন্যাটো ভূখণ্ডে সম্ভাব্য রুশ আক্রমণ ঠেকাতে জার্মানির সশস্ত্র বাহিনীর পুনর্গঠনের জন্য হাতে মাত্র তিন বছর সময় রয়েছে। শনিবার দেশটির সামরিক ক্রয় বিভাগের প্রধান এ তথ্য জানিয়েছেন।

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর পর থেকে ইউরোপজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও ন্যাটো সদস্যদের নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে।

বার্লিন থেকে এএফপি জানায়, জার্মান সামরিক ক্রয় সংস্থা ‘ফেডারেল অফিস ফর মিলিটারি প্রকিউরমেন্ট’-এর প্রধান অ্যানেট লেহনিগ-এমডেন জার্মান দৈনিক টেগেসপিগেল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “দেশের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম ও সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।”

এদিকে জার্মান প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল কার্স্টেন ব্রুয়ার সম্প্রতি সতর্ক করে জানিয়েছেন, রাশিয়া ২০২৯ সালের শুরুতেই ন্যাটো ভূখণ্ডে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে পারে। তিনি জানান, রাশিয়া ইতিমধ্যে বাল্টিক অঞ্চলে আক্রমণের জন্য গোলাবারুদ ও ট্যাঙ্ক মজুত করছে।

লেহনিগ-এমডেন জানান, নতুন সরকারের অধীনে দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে শত শত বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ করা হয়েছে। স্কাইরেঞ্জার বিমান বিধ্বংসী ট্যাঙ্কের মতো ভারী অস্ত্র সংগ্রহে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোকে তার সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার বলে ঘোষণা করেছেন। লক্ষ্য, জার্মানিকে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত সেনাবাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার ইউক্রেনে আক্রমণের পর থেকেই জার্মান সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন সরকার প্রতিরক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বর্তমান জিডিপির ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার জন্য চাপ বাড়িয়েছেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস জানিয়েছেন, ন্যাটোর বাড়তি প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণে আগামী কয়েক বছরে অতিরিক্ত ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ নতুন সৈন্য প্রয়োজন হবে। বর্তমানে জার্মান সেনাবাহিনীতে প্রায় ১,৮০,০০০ সৈন্য রয়েছে এবং ২০৩১ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২,০৩,০০০ ছাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।