বেগমগঞ্জে অপহরণে যুবক নিহত

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক নির্মম ঘটনার অভিযোগে মো. আবু বকর সিদ্দিক (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত আবু বকর সিদ্দিক উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খোয়াজপুর গ্রামের মৃত আমিন উল্লাহর ছেলে। তিনি জীবিকার প্রয়োজনে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বড় ভাইয়ের একটি খাবারের দোকানে কাজ করতেন। কিছুদিন আগে তিনি গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে বসে মোবাইলে সময় কাটাচ্ছিলেন। এ সময় ৫ থেকে ৭ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল হঠাৎ তার বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ের মাঠে নিয়ে গিয়ে মুখে গামছা বেঁধে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মৃত ভেবে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

স্থানীয়রা পরে তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহতের জানাজা সোমবার (২৭ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানায়, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ঘটনাটি অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষেপ

সময়/তারিখঘটনা
২১ এপ্রিল রাতবাড়ি থেকে অপহরণ ও মারধর
২১ এপ্রিল রাতগুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে যাওয়া
২২ এপ্রিলনোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি
পরবর্তীতেঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর
২৫ এপ্রিল দুপুরচিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
২৭ এপ্রিলজানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংস ঘটনা আর না ঘটে।