শামীম-হৃদয়ের ঝড়ে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ছয় উইকেটে পরাজিত করে সিরিজে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ১২ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে, যা দুই দলের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে রান তাড়ায় সর্বোচ্চ সফলতা।

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড ১৮২ রান সংগ্রহ করে। তাদের ইনিংসে দুটি অর্ধশতক আসে কেটেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেইভারের ব্যাট থেকে, যারা উভয়েই ৫১ রান করে দলের বড় স্কোর গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশের হয়ে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট শিকার করেন।

লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল নিয়ন্ত্রিত ও সতর্ক। ওপেনিং জুটিতে তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান মিলে ৪১ রান যোগ করেন। সাইফ হাসান ১৭ রান করে ফেরেন, আর তানজিদ হাসান তামিম ২০ রান করে আউট হন। অধিনায়ক লিটন দাস করেন ২১ রান।

মধ্যভাগে ম্যাচের গতি পরিবর্তন করেন তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন এবং শামীম হোসেন পাটোয়ারি। হৃদয় দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ১৮৮.৮৮ স্ট্রাইকরেটে ইনিংস সাজান এবং দলের ভিত গড়ে দেন। পারভেজ হোসেন ইমন দ্রুতগতির ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৪ বলে ২৮ রান করেন।

সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ইনিংস আসে শামীম হোসেন পাটোয়ারির ব্যাট থেকে। তিনি ২৩৮.৪৬ স্ট্রাইকরেটে ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ২টি ছক্কা ও ৩টি চার। শেষদিকে অধিনায়ক লিটন দাস ঝোড়ো ব্যাটিং করে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিল ৩টি ছক্কা ও ২টি চার, এবং তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কার অর্জন করেন।

ইনিংস সারসংক্ষেপ

দলরানউল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্সসেরা বোলার
নিউজিল্যান্ড১৮২কেটেন ক্লার্ক ৫১, ড্যান ক্লেইভার ৫১রিশাদ হোসেন (২ উইকেট)
বাংলাদেশ১৮৩/৪লিটন দাস ৫১*, শামীম হোসেন ৩১*, পারভেজ ইমন ২৮ইশ সোধি (২ উইকেট)

এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ আগের কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ডও ভেঙে দেয়। এর আগে ২০২৩ সালে নেপিয়ারে ১৩৫ রান তাড়া করে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জয় ছিল। অন্যদিকে, দুই দলের সম্মিলিত সর্বোচ্চ রান তাড়ার নতুন রেকর্ডও এটি।