জলবায়ু আন্দোলনের অন্যতম মুখ সুইডিশ কর্মী গ্রেটা থানবার্গসহ ১২ জন মানবাধিকার কর্মীকে বহনকারী একটি সাহায্যবাহী জাহাজ গাজার উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছেছে। শনিবার আয়োজকদের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
কায়রো থেকে এএফপি জানিয়েছে, ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ জোটের অংশ এই জাহাজটির নাম ম্যাডলিন। গত সপ্তাহে এটি ইতালির সিসিলি থেকে রওনা দেয়, লক্ষ্য— গাজার ওপর আরোপিত ইসরাইলি অবরোধ ভেঙে মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া।
জার্মান মানবাধিকার কর্মী ইয়াসেমিন আকার এএফপি’কে জানান, ‘আমরা এখন মিশরীয় উপকূল ছেড়ে যাত্রা করছি। সবাই ভালো আছে।’
লন্ডন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ‘গাজা অবরোধ ভাঙার আন্তর্জাতিক কমিটি’ জানিয়েছে, ম্যাডলিন বর্তমানে মিশরের জলসীমায় রয়েছে। জাহাজে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, জাহাজটি বাধা দেওয়া হলে সেটি হবে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসান সরকারগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন, ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলার নিরাপদ পথ নিশ্চিত করতে।’
উল্লেখ্য, গাজা ভূখণ্ড ২০০৭ সাল থেকে ইসরাইলি নৌ অবরোধের আওতায় রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে এই অবরোধ আরও কঠোর করা হয়।
ইতিহাস বলছে, ২০১০ সালে তুরস্কের মাভি মারমারা জাহাজ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে ইসরাইলি কমান্ডো অভিযানে ১০ জন বেসামরিক নিহত হয়। এছাড়া, গত মে মাসেও কনসায়েন্স নামের আরেকটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল।
এদিকে, পথিমধ্যে ডুবে যাওয়া একটি অভিবাসী নৌকার সংকেত পেয়ে ম্যাডলিন গত সপ্তাহে গ্রীক দ্বীপ ক্রেটের কাছে গতি পরিবর্তন করে। সেখান থেকে চারজন সুদানি অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের ইউরোপীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর (ফ্রন্টেক্স) জাহাজে স্থানান্তর করা হয়।
২০১০ সালে চালু হওয়া ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ওপর আরোপিত অবরোধের বিরুদ্ধে কাজ করছে। ইসরাইলি অবরোধের ফলে গাজা এখন মানবিক বিপর্যয়ের মুখে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে।
