কয়লা নির্ভরতায় দক্ষিণ আফ্রিকার রপ্তানি ও চাকরিতে বড় ঝুঁকি

দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনীতি বর্তমানে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। কয়লার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ে ধস নামতে পারে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বিশ্বজুড়ে ক্রেতা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কার্বনমুক্ত পণ্য ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। সোমবার এই সতর্কবার্তা জানিয়েছে জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘নেট জিরো ট্র্যাকার’।

এএফপির খবরে বলা হয়, আফ্রিকার সবচেয়ে শিল্পোন্নত দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ দূষণকারী। দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ কয়লা থেকে উৎপাদিত হয়।

নেট জিরো ট্র্যাকার জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় কার্বনমুক্ত করার চেষ্টা করছে এবং উচ্চ কার্বন নির্গমনকারী পণ্যের ওপর বিভিন্ন দেশ বাড়তি শুল্ক আরোপ করছে। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকার ১৩৯টি দেশে প্রায় ১৩৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে, যা দেশটির মোট রপ্তানির ৭৮ শতাংশ। এই খাতে প্রায় ১২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। তবে এই দেশগুলো ইতোমধ্যেই ‘নেট জিরো লক্ষ্য’ গ্রহণ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকা যদি দ্রুত কার্বনমুক্ত রপ্তানি নীতিতে যেতে না পারে, তবে বড় অংশের বাজার ও বিপুল কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

তবে আশার কথা হলো, দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে এই পরিবর্তন আনার উপকরণ রয়েছে। নেট জিরো ট্র্যাকার-এর প্রকল্প প্রধান জন ল্যাং বলেন, দেশটির নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী ফোরামে অংশগ্রহণের সুযোগ আছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে স্বল্প দূষণকারী পণ্যের যোগানদাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশের ভালো সুযোগ রয়েছে।’

এদিকে কার্বন নির্গমন কমানোর উদ্যোগ ‘ডিকার্বনাইজেশন’-এর বড় চালিকাশক্তি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিবিএম)’। ২০২২ সালে এই নীতিমালা গৃহীত হয়। এর আওতায়, পরিবেশে বেশি দূষণ ঘটানো দেশ থেকে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও সিমেন্টের মতো পণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত কার্বন শুল্ক আরোপ করা হবে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে সিবিএম-এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালে এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করেছে, এই শুল্কের কারণে দেশটির রপ্তানি ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। শুধু সিবিএম-এর কারণেই ২০৩০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকার রপ্তানি চার শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।