পাকিস্তানি সংগীতের বিশ্বব্যাপী উত্থান

কাওয়ালি, গজল, পাঞ্জাবি পপ ও আধুনিক ফিউশন সংগীত—সব মিলিয়ে পাকিস্তানের সংগীত এখন বিশ্বমঞ্চে এক নতুন অবস্থান তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে পাকিস্তানি গানের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও শ্রোতাসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তানি সংগীতশ্রোতার একটি বড় অংশ দেশের বাইরে অবস্থান করছে, যা এই শিল্পের বৈশ্বিক বিস্তারের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

আধুনিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে আলী শেঠি ও শায় গিলের ‘পাসুরি’। গানটি আন্তর্জাতিক সংগীত চার্টে শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছে পাকিস্তানি পপ সংস্কৃতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে পাকিস্তানি সংগীতের বৈশ্বিক রপ্তানি বা শ্রোতা প্রবাহ প্রায় ছয় শত বিশ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন ঘরানার গানের বিদেশি শ্রোতার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। পাঞ্জাবি পপ ও কাওয়ালি শ্রেণির প্রায় ঊননব্বই শতাংশ শ্রোতা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। পাঞ্জাবি হিপ-হপ ও দেশি পপের ক্ষেত্রে এই হার যথাক্রমে আটাশি ও সাতাশি শতাংশ। গজল এবং ভাংরা ঘরানাতেও বিদেশি শ্রোতার সংখ্যা প্রায় চুরাশি শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

পাকিস্তানি সংগীতের এই আন্তর্জাতিক যাত্রা নতুন নয়। নব্বইয়ের দশকে নুসরাত ফতেহ আলী খান পশ্চিমা সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে কাওয়ালিকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করেছিলেন। তিনি পিটার গ্যাব্রিয়েল ও এডি ভেডারের মতো শিল্পীদের সঙ্গে যৌথভাবে সংগীত পরিবেশন করেন। আশির দশকে নাজিয়া হাসানের ‘ডিসকো দিওয়ানে’ অ্যালবামটি এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়তা লাভ করে, যা তখনকার সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার পপ সংগীতকে নতুন পরিচিতি দেয়।

বর্তমান সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এই প্রসারকে আরও গতিশীল করেছে। আলী শেঠি গজল ও শাস্ত্রীয় সংগীতকে আধুনিক রূপ দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছেন। তিনি হার্ভার্ড এবং কার্নেগি হলের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়মিত পরিবেশনা করেছেন। অন্যদিকে লাহোরের শায় গিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংগীতজগতে প্রবেশ করে ‘পাসুরি’ গানের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি অর্জন করেন।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তানি সংগীতের বিভিন্ন ঘরানার বিদেশি শ্রোতার হার নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—

সংগীত ঘরানাবিদেশি শ্রোতার হার
পাঞ্জাবি পপ ও কাওয়ালি৮৯ শতাংশ
পাঞ্জাবি হিপ-হপ৮৮ শতাংশ
দেশি পপ৮৭ শতাংশ
গজল৮৪ শতাংশ
ভাংরা৮৪ শতাংশ

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈচিত্র্যপূর্ণ সংগীতধারা এবং আধুনিক ফিউশন উপস্থাপনা পাকিস্তানি সংগীতকে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগীতমঞ্চে পাকিস্তানি শিল্পীদের অংশগ্রহণ এবং জনপ্রিয়তা দক্ষিণ এশীয় সংগীতকে বিশ্বমানচিত্রে নতুন পরিচয় দিচ্ছে।