জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে (বিদিশা এরশাদ) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের আদেশে একটি প্রতারণার মামলায় কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে সাঁজায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। দীর্ঘ দিন পর অবশেষে সেই পরোয়ানার আলোকেই তাঁকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হলো।
মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের একটি ভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ। বিদিশাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, বিদিশা এরশাদের বিরুদ্ধে ঢাকার একটি আদালতে জমি সংক্রান্ত চুক্তি ও আর্থিক লেনদেন কেন্দ্রিক প্রতারণার মামলা দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ছিল। ওই মামলার প্রক্রিয়া ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত বিদিশাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায়ে বিজ্ঞ বিচারক তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের নির্দেশ দেন। রায়ে আরও স্পষ্ট বলা হয়, জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত সাজা ভোগ করতে হবে তাঁকে। তবে সাজা ঘোষণার দিন আসামিপক্ষ আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আদালত বিদিশার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন। গুলশান থানা পুলিশ খবর পেয়ে সেই পরোয়ানা তামিল করতেই অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হওয়ার পর বিদিশা দেশে ব্যাপক সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালের দিকে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। বৈবাহিক বিচ্ছেদ ঘটলেও এরশাদের মৃত্যুর পর তিনি আবারও দেশের মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে জাতীয় পার্টি পুনর্গঠন এবং পুত্র এরিক এরশাদের ট্রাস্ট পরিচালনা সংক্রান্ত নানা উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি সংবাদ শিরোনামে আসেন। জাতীয় পার্টির একটি বিদ্রোহী অংশের পক্ষে গিয়ে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ও নানা সংবাদ সম্মেলনে তিনি মূল ভূমিকায় ছিলেন।
গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন জানান, গ্রেপ্তারের পর বিদিশাকে থানা হেফাজতে রেখে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া ও জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করা হচ্ছে। পরোয়ানা সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র প্রস্তুত করে পরদিন সকালে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুসারেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদিশা এরশাদের গ্রেপ্তারের এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।









