আমার বন্ধু আগামী চক্রবর্তী এবং তার পরিবারকে হত্যার বিষয়ে সরেজমিনে দেখা এবং আমার কিছু অভিমত-
-প্রথমত প্রশাসনের ব্রিফিং অনুযায়ী পুলিশ রুমের ভেতর ইয়াবা সেবনের আলামত পায়। সুতরাং খুনিরা ছাদে পুরোপুরি নেশার সুযোগ পায়নি, অথবা তাদের পরিকল্পনা ছিল কাজ শেষ করে আয়েস করা। নিরাপদ এবং নিরিবিলিতে নেশাই যদি উদ্দেশ্য হতো , তবে যে ছাদ পেরিয়ে ওরা এসেছিল, সেটিই ছিল তুলনামূলক বেশি নিরাপদ। কারণ সেখানে ছিল ভাড়াটিয়া(মেয়ে)। ভাড়াটিয়া অভিযোগ জানাতে পারেন কিন্তু এ্যাকশন নিতে পারেন না। নেশাগ্রস্থ হয়ে মেরেছে কিংবা ইয়াবাই যে প্রধান কালপ্রিট এমন ব্যাখ্যা এক্ষেত্রে দুর্বল।
– দ্বিতীয়ত যে দুজনকে(সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ) গ্রেফতার করা হয়েছে, এলাকাবাসীর কেউই তাদের মাদকাসক্তির ব্যাপারে অবগত নয়, এমনকি তাদের ব্যাকগ্রাউন্ডেও কোনো সহিংস আচরণের নজির নেই।
– তৃতীয়ত বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়া এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির শার্ট বদল নিয়ে প্রশাসন যে ব্যাখ্যা দিয়েছে সেটি খুবই সস্তা স্ক্রিপ্ট। বাসার ভেতর কেউ নেই, এটি বুঝানোর জন্য বিদ্যুৎ লাইন অফ করার প্রয়োজন হয়না। অপরদিকে গ্রেফতারের সময় টি-শার্ট পরবর্তীতে হাফ শার্টে বদলে যাওয়ার ঘটনাটিও সবাইকে অবাক করে। স্বর্ণ আগুন দিয়ে চেক করেছে বলেই সে স্বর্ণকার, ডিএনএ ম্যাচিং ছাড়াই সরাসরি শনাক্ত করা, এক রাতের ভেতর এতো দ্রুত গ্রেফতার ইতিহাসে নজিরবিহীন।
• লাশের অবস্থান নিয়ে আরও স্পর্শকাতর একটা ব্যাপার আছে। পাশের বাসার ভাড়াটিয়ার ভাষ্যমতে উনি কাপড় শুকানোর জন্য প্রায়ই ছাদে ওঠে। দুই বাসার ছাদ একসাথে লাগানো। খুনিরা ভয় পেয়েই যদি বিদ্যুৎ লাইন অফ করে, তবে একই ভয়ে ওরা লাস*দের ছাদে এবং সিঁড়িতে রাখবে না। এক্ষেত্রে অনুমান করা যায় খুনিরা খুনের গল্প ভিন্ন দিকে চালিত করতে অথবা আলামত লুকাতে অথবা নৃশংসতার প্রমাণ হিসেবে ইচ্ছেকৃতভাবেই লাশদের এমন অবস্থানে রেখেছে।
•মা ও মেয়ের পরনের পোশাকও ছিল লজ্জাজনক অবস্থায়। সেটি নিয়েও কথা আছে।
– চতুর্থত খুনিরা বুঝিয়েছে ওরা প্রোফেশনাল না। নেহাত উত্তেজনার বশে মেরেছে। এক্ষেত্রে ওরা বিদ্যুৎ লাইনে শর্টসার্কিট ঘটিয়েছে, রুম এলোমেলো করেছে, খেয়েছে, চুরি করেছে।
নিস্তব্ধ রাতে কোনো প্রকার শব্দ ছাড়াই একে একে ৪জনকে মেরে ফেলা একমাত্র প্রোফেশনাল কিলারদের পক্ষেই সম্ভব।
– পঞ্চমত আগামীর ফোন থেকে একটা মেসেজ পাওয়া গেছে শুক্রবার ভোর ৫:৫০ মিনিটে(প্রায় সকাল)। এক্ষেত্রেও হয়তো খুনিরা ইচ্ছে করেই তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে ফোন আনলক করে লাস্ট মেসেজটি করেছে, যাতে করে ঘটনা আরও ভিন্ন দিকে মোড় নেয়, তদন্তে আরও বেশি সময় লাগে।
পুলিশের ব্রিফ অনুযায়ী একই ব্যাখ্যা মেলে, ওরা ফোন গুলো ডিটারজেন্ট দিয়ে ভিজিয়েছিল।
সর্বোপরি এই ঘটনায় আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলের সবাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে। একটা পরিবার শেষ হয়ে গেল, শান্তনা দেওয়ার মতো একটি মানুষও বেঁচে নেই।
রংপুরে এমন হত্যাকাণ্ড বিরল, বিশেষ করে এমন একটি এলাকায়। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন মেনস্ট্রিম মিডিয়ায় এখন এই হত্যাকাণ্ড ভাইরাল। এখন পর্যন্ত সরকারের চোখ ঢাকার বাইরে আসেনি, আসবে কিনা জানা নেই।
প্রশাসন তো এখন পার্কে হোটেলে গিয়ে অপরাধ খোঁজে, ওরা কাপল ধরতে ব্যস্ত। আর সংবাদমাধ্যম সেটাকে মধুর চাক ভেবে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করে।
আরও অবাক হলাম, এক বেনামী মিডিয়া কর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনদের মধ্যে একজনের কাছে অনুভূতি জানতে চাচ্ছে।
যাইহোক, পরিশেষে হয়তো খুনিরাই জয়ী হবে। যা হয়ে আসছে এতদিন…
আগামীরা পরপাড়ে ভালো থাকুক।









