রাজধানীর কদমতলীতে ছিনতাইয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় জনি নামে ৩৫ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে শ্যামপুরের বড়ুইতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জনি পেশায় রিকশাচালক ছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বড়ুইতলা এলাকায় দুই ব্যক্তিকে পথরোধ করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছিলেন তিন ব্যক্তি। এ সময় তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে মারধরের ঘটনায় জনি গুরুতর আহত হন। পরে খবর পেয়ে কদমতলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
পুলিশ তাকে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জনিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
কদমতলী থানার পরিদর্শক তদন্ত সজিব কুমার বাড়ই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বড়ুইতলা এলাকায় দুই ব্যক্তিকে পথরোধ করার পর তিন ছিনতাইকারীর সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। ওই ঘটনায় জনি গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে দুজন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপর একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে কীভাবে মারধরের ঘটনা ঘটল, সেখানে ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং নিহত জনির ভূমিকা কী ছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহত জনি শ্যামপুর ব্রিজ এলাকার নবারুণ গলিতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার বাবার নাম তোতা মিস্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের জন্য জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন ছিল তার রিকশা চালানোর কাজ।
জনির চাচাতো ভাই নাঈম ইসলাম জানান, রাতে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন জনি। এরপর ভোরে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান। খবর পেয়ে স্বজনেরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান এবং মর্গে গিয়ে জনির মরদেহ শনাক্ত করেন।
জনির মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রাতে কাজ করতে বের হয়ে ভোরে তার মরদেহ ফিরে আসায় স্বজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাগুলোতে রাত ও ভোরের সময়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ নতুন নয়। তবে কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধরের পর একজনের মৃত্যু হলে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। এ ধরনের ঘটনায় একদিকে যেমন অপরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, অন্যদিকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিও যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করা হবে।
নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।









