বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ম্যাচ পাতানোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ২০২৫ সালে সামান্য অগ্রগতি দেখা গেলেও হুমকি পুরোপুরি কাটেনি। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ক্রীড়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান স্পোর্টরাডারের বার্ষিক প্রতিবেদন “ইন্টেগ্রিটি ইন অ্যাকশন ২০২৫: গ্লোবাল অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ট্রেন্ডস”–এ জানানো হয়েছে, গত বছর ৭০টি খেলায় প্রায় ১০ লাখ ইভেন্ট বিশ্লেষণ করে ১,১১৬টি সন্দেহজনক ম্যাচ শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এ হার কমেছে ১ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি, কঠোর আইনি প্রয়োগ এবং খেলোয়াড়-অফিশিয়ালদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ এই ইতিবাচক প্রবণতায় ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠিত ৯৯.৫ শতাংশের বেশি ক্রীড়া ইভেন্ট সন্দেহ ছাড়াই পর্যবেক্ষণের আওতায় ছিল—যা সমন্বিত নৈতিকতা রক্ষার প্রচেষ্টার কার্যকারিতা নির্দেশ করে। গড়ে প্রতি ৩২৬টি ম্যাচের মধ্যে ১টি সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
মহাদেশভিত্তিক চিত্র
ইউরোপে এখনো সর্বাধিক সন্দেহজনক ম্যাচ ধরা পড়লেও ২০২৪ সালের তুলনায় ৬৬টি কমে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮৫–এ (২০২৪ সালে ছিল ৪৫১)। দক্ষিণ আমেরিকায়ও ৬৪টি কমেছে। তবে এশিয়া (+৩৬), আফ্রিকা (+৪৩) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় (+৪১) সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। আফ্রিকায় ২০২৪ থেকে ২০২৫–এর মধ্যে বৃদ্ধির হার ৯২ শতাংশ—যা উদ্বেগজনক।
| মহাদেশ | ২০২৪ | ২০২৫ | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| ইউরোপ | ৪৫১ | ৩৮৫ | -৬৬ |
| দক্ষিণ আমেরিকা | — | — | -৬৪ |
| এশিয়া | — | — | +৩৬ |
| আফ্রিকা | — | — | +৪৩ |
| উত্তর ও মধ্য আমেরিকা | — | — | +৪১ |
খেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান
ফুটবল এখনো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। ২০২৫ সালে এ খেলায় ৬১৮টি সন্দেহজনক ম্যাচ শনাক্ত হয়েছে। যদিও ২০২৪ সালের ৭৩০ থেকে ১৫ শতাংশ কমেছে, তবু মোট সন্দেহজনক ম্যাচের ৫৫ শতাংশই ফুটবলের (২০২৪ সালে ছিল ৬৫ শতাংশ)। ইউরোপীয় ফুটবলে ২৮ শতাংশ এবং দক্ষিণ আমেরিকায় ৩৭ শতাংশ হ্রাস পাওয়া গেছে।
| খেলা | ২০২৫ সালে সন্দেহজনক ম্যাচ |
|---|---|
| ফুটবল | ৬১৮ |
| বাস্কেটবল | ২৩৩ |
| টেনিস | ৭৮ |
| টেবিল টেনিস | ৬৫ |
| ক্রিকেট | ৫৯ |
বাস্কেটবল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (২৩৩), এরপর টেনিস (৭৮) ও টেবিল টেনিস (৬৫)। ক্রিকেটে ৫৯টি ম্যাচ সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে—যা ২০২৪ সালের ১৬টির তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। টি–টোয়েন্টি ম্যাচ বৃদ্ধিই এ প্রবণতায় বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত।
ক্রিকেটে সন্দেহজনক ম্যাচের ৬৯ শতাংশ ঘটেছে এশিয়ার ৬টি দেশে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় ১৭ শতাংশ—এ অঞ্চলে একাধিক সন্দেহজনক ম্যাচ শনাক্তের ঘটনা এবারই প্রথম। ইউরোপে ছিল ১২ শতাংশ। উল্লেখযোগ্যভাবে, ক্রিকেটে ফলাফল বদলের চেয়ে ‘স্পট ফিক্সিং’-এর প্রাধান্য বেশি—মোট সন্দেহজনক ঘটনার ৯১ শতাংশই এ ধরনের।
স্পোর্টরাডারের ইন্টেগ্রিটি সার্ভিসের নির্বাহী সহসভাপতি আন্দ্রিয়াস ক্র্যান্নিচ বলেন, “ম্যাচ ফিক্সিং একটি ক্রমবর্ধমান হুমকি। দুর্নীতিকারীদের চেয়ে এগিয়ে থাকতে প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য, শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ জরুরি।”
সার্বিকভাবে ২০২৫ সালে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও পরিসংখ্যান বলছে—ম্যাচ পাতানোর নেটওয়ার্ক এখনো বহুখেলাভিত্তিক ও বহুমহাদেশজুড়ে সক্রিয়। ফলে ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা ছাড়া বিকল্প নেই।
