জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

গুলশানের দুই স্পা সেন্টারে অভিযান, আটক ৫৩

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের দুটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ৫৩ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও ২৯ জন নারী। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুটি প্রতিষ্ঠানে ‘অনৈতিক’ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়েছে।

বুধবার রাতে পরিচালিত এই অভিযানের বিষয়টি বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে গুলশানের দুটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে সেখান থেকে মোট ৫৩ জনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় কিছুটা বেশি। মোট ৫৩ জনের মধ্যে ২৯ জন নারী এবং ২৪ জন পুরুষ রয়েছেন। তবে তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন বা তাঁরা কী ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে কোন আইনের কোন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে অভিযানের পরপরই বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক’ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টারকে ঘিরে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্পা ও সৌন্দর্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে মাঝেমধ্যে নানা ধরনের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের মধ্যে অনুমোদিত সেবার আড়ালে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়। গুলশানের দুটি স্পা সেন্টারে বুধবার রাতের অভিযানও এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে বলে পুলিশের বক্তব্যে জানা গেছে।

তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে কাউকে আটক করা মানেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে যাওয়া নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে এবং তাঁদের দায় কতটা, তা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়ার কথা।

এ ধরনের অভিযানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বৈধতা, অনুমোদিত সেবার পরিধি এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আইন ও বিধিমালা মেনে পরিচালিত হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও আইনি ভিত্তি স্পষ্ট করাও পরবর্তী কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, গুলশানের সংশ্লিষ্ট দুটি স্পা সেন্টারের নাম কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে গেলে এসব বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।

গুলশানের এই অভিযানের মধ্য দিয়ে রাজধানীর স্পা ও সংশ্লিষ্ট সেবাকেন্দ্রগুলোতে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের নজরদারি আবারও সামনে এসেছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর