জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

মাঠে দুবার জ্ঞান হারিয়ে নতুন শারীরিক চ্যালেঞ্জে মুসিয়ালা

জার্মানির তরুণ তারকা জামাল মুসিয়ালার ফুটবল ক্যারিয়ারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার পর মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুটি ঘটনায় তিনি মাঠে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান। পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ‘অ্যাবসেন্স সিজার’ নামের এক ধরনের খিঁচুনিজনিত স্নায়বিক সমস্যা শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

২৩ বছর বয়সী মুসিয়ালা গত মৌসুমের বড় একটি সময় চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন। ধীরে ধীরে পূর্ণ ফিটনেসে ফেরার প্রক্রিয়ার মধ্যেই নতুন এই শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হলেন তিনি। ফলে নতুন মৌসুমে তাঁর মাঠে ফেরার বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সবশেষ হেইডেনহেইমের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র আট মিনিট পরই মুসিয়ালা আবার লুটিয়ে পড়েন। এর আগে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। পরপর দুটি ঘটনায় বায়ার্ন মিউনিখের অন্দরমহলেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে প্রথম ঘটনার মাত্র চার দিন পর দ্বিতীয়বার এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে আরও সতর্ক হয়।

তবে চিকিৎসকদের মূল্যায়নে আপাতত পেশাদার ফুটবল খেলার ক্ষেত্রে মুসিয়ালার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বায়ার্ন মিউনিখের অনারারি প্রেসিডেন্ট উলি হোয়েনেস জানিয়েছেন, ক্লাবের কাছে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের লিখিত মতামত রয়েছে। সেই মতামতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের মধ্যে মুসিয়ালা পেশাদার ফুটবলে অংশ নিতে পারেন।

হোয়েনেসের বক্তব্য অনুযায়ী, মুসিয়ালার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি ক্লাব কিছুদিন ধরেই জানত। প্রথম ঘটনার পর চিকিৎসা ও ওষুধের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু চার দিনের ব্যবধানে একই ধরনের ঘটনা আবার ঘটায় ক্লাবের কর্মকর্তারাও বিস্মিত হন।

হোয়েনেস জানিয়েছেন, মুসিয়ালা নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করছেন এবং মাঠে ফেরানোর আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, লিখিত চিকিৎসা-অনুমোদন ছাড়া মুসিয়ালাকে মাঠে নামানো দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত হতো না। তাই খেলোয়াড়টির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত বায়ার্ন মিউনিখ মুসিয়ালার ফুটবল ক্যারিয়ার থামিয়ে দেওয়ার মতো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বরং চিকিৎসকদের পরামর্শ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে ধীরে এগোতে চাইছে ক্লাব। তবে অল্প সময়ের মধ্যে একই ধরনের দুটি ঘটনা ঘটায় বিষয়টি যে সাধারণ চোটের তুলনায় আলাদা, সেটি স্পষ্ট।

মুসিয়ালার কঠিন সময়ে সতীর্থরাও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। বায়ার্নের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন তরুণ এই তারকার মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত মৌসুমে চোট থেকে ফেরার জন্য মুসিয়ালা আড়ালে অনেক পরিশ্রম করেছেন। এখন দলের প্রধান দায়িত্ব হলো তাঁকে প্রয়োজনীয় মানসিক সমর্থন দেওয়া।

কেইনের মতে, ক্লাব, বন্ধু ও পরিবার—সবাই মুসিয়ালার পাশে রয়েছে। দীর্ঘ চোটের পর মাঠে ফেরার লড়াই শেষ না হতেই নতুন শারীরিক চ্যালেঞ্জ সামনে আসায় তাঁর জন্য সময়টি নিঃসন্দেহে কঠিন।

মুসিয়ালার বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নিরাপদে থাকা এবং চিকিৎসা পরিকল্পনা ঠিকভাবে অনুসরণ করা। অ্যাবসেন্স সিজারের মতো খিঁচুনিজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই বায়ার্নও তাড়াহুড়ো না করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এগোতে চাইছে।

এই মুহূর্তে মুসিয়ালার ক্যারিয়ার নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কার কথা জানানো হয়নি। তবে তাঁর মাঠে ফেরার প্রতিটি ধাপ এখন চিকিৎসা-পরামর্শ ও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই নির্ধারণ করা হবে। বায়ার্নের লক্ষ্যও পরিষ্কার—ফুটবলের চেয়ে খেলোয়াড়ের সুস্থতা ও নিরাপত্তাকেই আগে রেখে এমন একটি পথ খুঁজে বের করা, যাতে মুসিয়ালা ভবিষ্যতে নিরাপদে আবার নিয়মিত ফুটবলে ফিরতে পারেন।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর