ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ আলামীন ঢালী (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তাঁর সঙ্গে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ২১ আগস্ট কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভংনা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালায় ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। অভিযানে ওই তিনজনকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আলামীন ঢালী কালিন্দী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত। তবে তাঁর দলীয় পরিচয় নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ কেউ তাঁর ওই পদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজনের দাবি, আলামীন ঢালী এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, ভয় দেখিয়ে ব্যবসায় প্রভাব বিস্তার এবং জোরপূর্বক বালু ভরাটের মতো অভিযোগ রয়েছে বলেও তাঁরা জানান। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলামীনের বাবা মিলন ঢালী কালিন্দী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তাঁর ভাই আসাদ কালিন্দী ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং চাচা লিটন ঢালী ইউনিয়ন বিএনপির শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আলামীন ঢালীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে জানতে চাইলে কালিন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব হাজী আতাউর রহমান হিরা বলেন, তিনি আলামীন বিএনপির সদস্য কি না বা তাঁর কোনো দলীয় পদ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। তাঁর বক্তব্য, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিএনপিতে স্থান নেই।
কালিন্দী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. মেহবুবও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
মামলার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।









