২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গিয়ে দারুণ এক জয় দিয়ে সফর শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল লাল-সবুজের দল। তবে সেই সাফল্যের রেশ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি সিরিজের শেষ ম্যাচে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে সিরিজের শেষটা হতাশায় কাটাতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
তবে পুরো সফর থেকে একেবারে খালি হাতে ফেরেনি বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক জয়টি দলের জন্য যেমন আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস হয়ে থাকবে, তেমনি সিরিজের শেষ ম্যাচের ব্যর্থতা থেকে নতুন করে ভাবার সুযোগও তৈরি হয়েছে। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে অবশ্য সফরটি মোটেও সুখকর ছিল না লিটন দাসের জন্য।
দুই টেস্টে তিন ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েও একবারও রানের খাতা খুলতে পারেননি বাংলাদেশের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। তিন ইনিংসেই তাঁর স্কোর শূন্য। অর্থাৎ পুরো সফরে ব্যাট হাতে লিটনের প্রাপ্তি—০, ০ ও ০।
আরও দুর্ভাগ্যের বিষয়, তিনবারই একই বোলারের শিকার হয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্কের বলে পরাস্ত হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন লিটন। ফলে স্টার্কের বিপক্ষে এই সিরিজটি তাঁর জন্য ব্যক্তিগতভাবে হয়ে উঠেছে বড় হতাশার।
অবশ্য অস্ট্রেলিয়া সফরে লিটনের অংশগ্রহণই একসময় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। কাফ মাসলের চোটের কারণে প্রথম টেস্টের দল ঘোষণার সময় তিনি স্কোয়াডে ছিলেন না। কিন্তু পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত উন্নতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
তাঁকে দলে ফেরানোয় স্বাভাবিকভাবেই আশাবাদী ছিল বাংলাদেশ দল। টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে লিটনকে দলের ব্যাটিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুযায়ী আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করার সামর্থ্যের জন্যও তিনি পরিচিত।
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে তাঁর অভিজ্ঞতা ও ব্যাটিং সামর্থ্য বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশাই ছিল। বিশেষ করে প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও লিটনের কাছ থেকে কার্যকর অবদান প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি মাঠে।
দুই টেস্টের তিন ইনিংসে তিনটি শূন্য নিয়ে সফর শেষ করেছেন তিনি। শুধু রান না পাওয়াই নয়, প্রতিবারই স্টার্কের বলে আউট হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একজন ব্যাটারের জন্য একই সিরিজে একই বোলারের কাছে বারবার পরাস্ত হওয়া মানসিকভাবেও কঠিন অভিজ্ঞতা হতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য অবশ্য এই সফরের বড় প্রাপ্তি ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে স্বাগতিকদের হারানো দলের সামর্থ্যেরই প্রমাণ দিয়েছে। তবে শেষ টেস্টের বড় পরাজয় দেখিয়েছে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এখনও অনেক জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন।
লিটনের ক্ষেত্রেও সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকবে। অস্ট্রেলিয়া সফরের ব্যর্থতা তাঁর সামগ্রিক সামর্থ্যের চূড়ান্ত প্রতিচ্ছবি নয়। বরং চোট কাটিয়ে দলে ফেরার পর এমন একটি কঠিন সিরিজ তাঁর জন্য পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরও ভালো প্রস্তুতি ও প্রত্যাবর্তনের প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।








