শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর একটি পুকুর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছিল তারা। পরে দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের মধ্য নাকশী গ্রামের একটি পুকুরে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত দুই শিশু হলো মধ্য নাকশী গ্রামের হযরত আলীর ছেলে রোহান, বয়স সাত বছর, এবং একই গ্রামের এবাদুল ইসলামের ছেলে ইসমাইল, বয়স ছয় বছর। তারা একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় পরস্পরের পরিচিত ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর ১২টার দিকে রোহান ও ইসমাইল নিজ নিজ বাড়ি থেকে বের হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আশপাশের এলাকায় খোঁজ শুরু করেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও শিশু দুটির সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।
গ্রামের আশপাশের সড়ক, বসতবাড়ির আশপাশ এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালানো হলেও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। শিশু দুটি কোথায় গেছে, কারও সঙ্গে ছিল কি না কিংবা কীভাবে নিখোঁজ হয়েছে—এসব বিষয়ে তখনও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যার পরও তাদের সন্ধান না মেলায় পরিবারের উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়।
এরপর দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গ্রামের একটি পুকুরে দুই শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত সেখানে লোকজন জড়ো হন। পরে পুকুর থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ থাকার পর একই পুকুর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
তবে দুই শিশু কীভাবে ওই পুকুরে পৌঁছেছিল, তারা কখন সেখানে গিয়েছিল এবং পানিতে কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি দুর্ঘটনা কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে শিশু দুটির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। পুলিশি তদন্ত ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
দুই শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে মধ্য নাকশী গ্রামের স্বাভাবিক পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অল্প বয়সী দুই শিশুকে একসঙ্গে হারানোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও গভীর বেদনা দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গ্রামাঞ্চলে অনেক বাড়ির কাছেই পুকুর, ডোবা, খালসহ বিভিন্ন ধরনের জলাশয় রয়েছে। অল্পবয়সী শিশুরা খেলতে বা ঘোরাফেরা করতে গিয়ে অসতর্কভাবে এসব স্থানের কাছে চলে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুরা একা বাইরে গেলে পরিবারের সদস্যদের তাদের অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।
স্থানীয়দের মতে, বাড়ির আশপাশের জলাশয়গুলোতে শিশুদের অবাধ চলাচল ঠেকাতে পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে আরও সচেতনতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয়ের বিষয়ে শিশুদের সতর্ক করা এবং তাদের চলাফেরার ওপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রে ঠিক কীভাবে দুই শিশু পুকুরে পৌঁছেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর একই পুকুর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা পরিবারগুলোর জন্য এক গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার পুরো পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী।









