ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোকপ্রস্তাব গ্রহণকে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নাগরিকরা তীব্রভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হয়েছে এবং দেশের গণচেতনার উপর আঘাত এসেছে বলে প্রতিক্রিয়া এসেছে।
Table of Contents
সিপিবির প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) শোকপ্রস্তাবকে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন,
“একাত্তরের গণহত্যা, গণধর্ষণ ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের উত্তরাধিকার বহনকারীরা সংসদে আসন গ্রহণ করে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোকপ্রস্তাব গৃহীত করেছে। এটি দেশের জনগণের সামনে ক্ষমার অযোগ্য আচরণ।”
বাসদের দাবি
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) শোকপ্রস্তাব থেকে যুদ্ধাপরাধীদের নাম প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন,
“সরকারদলীয় চিফ হুইপ যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোকপ্রস্তাব গৃহীত করার প্রস্তাব দিলে আমরা অবাক হয়েছি। সংসদের স্পিকার তা অনুমোদন করেছেন। এটি মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা।”
উদীচীর নিন্দা
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীও শোকপ্রস্তাবকে ইতিহাস ও শহীদদের প্রতি কুখ্যাত আচরণ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন,
“জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। প্রমাণিত যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা ইতিহাস কলঙ্কিত করে। জাতীয় সংগীতের প্রতি অবমাননাকর আচরণও গ্রহণযোগ্য নয়, এটি দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও জাতির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে।”
নাগরিকদের প্রতিবাদ
৪১ জন বিশিষ্ট নাগরিক—কবি, লেখক, সাংবাদিক, গবেষক ও উন্নয়নকর্মী—এক বিবৃতিতে শোকপ্রস্তাবের অংশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে বলা হয়েছে,
“জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে অবিলম্বে এই শোকপ্রস্তাবের অংশ প্রত্যাহার করতে হবে। ভবিষ্যতে সংসদ বা অন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বিতর্কিত পদক্ষেপ যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাই সতর্ক থাকুক।”
প্রতিবাদ ও নিন্দার সারসংক্ষেপ
| সংস্থা/ব্যক্তি | মূল বক্তব্য | দাবি/প্রস্তাবনা |
|---|---|---|
| সিপিবি | মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা | শোকপ্রস্তাব প্রত্যাহার |
| বাসদ | গণহত্যার সহযোগীকে স্মরণ করায় অপমান | যুদ্ধাপরাধীর নাম বাদ দেওয়ার দাবি |
| উদীচী | জাতীয় সংগীত ও সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ | শাস্তি ও সম্মান প্রদানের আহ্বান |
| ৪১ নাগরিক | ইতিহাস ও গণচেতনা রক্ষা | শোকপ্রস্তাব কার্যবিবরণী থেকে প্রত্যাহার |
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শোকপ্রস্তাব দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগকে রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে দেশপ্রেমের চেতনা স্থাপন করাই এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।
