বাংলাদেশে প্রতিদিনের অর্থনৈতিক লেনদেনে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয়, প্রবাসী আয়, বিদেশে শিক্ষা ও চিকিৎসা, ভ্রমণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য—বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুদ্রার দর পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে। এর মধ্যে মার্কিন ডলার, ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, ভারতীয় রুপি, চীনা ইউয়ান ও জাপানি ইয়েনসহ বিভিন্ন মুদ্রার দর নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকেরা।
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার কেনা ও বেচার হার প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় মার্কিন ডলারের বেচা দর রয়েছে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা। আর কেনা দর নির্ধারিত হয়েছে ১২২ টাকা ৯০ পয়সা।
ডলারের এই দর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় একটি অংশ ডলারে সম্পন্ন হয়। ফলে ডলারের বিনিময় হার আমদানি পণ্যের মূল্য, বৈদেশিক লেনদেন এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক খরচের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয় ও বিদেশ থেকে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও ডলারের দর গুরুত্বপূর্ণ।
পাউন্ড ও ইউরোর দর
ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রে আজ কেনা দর ১৬৪ টাকা ৪৫ পয়সা এবং বেচা দর ১৬৪ টাকা ৬২ পয়সা। ইউরোর কেনা দর ১৪০ টাকা ৮৯ পয়সা, আর বেচা দর ১৪১ টাকা ৪ পয়সা।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণের জন্য নিয়মিত অর্থ লেনদেন হয়। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মুদ্রার বিপরীতে টাকার বিনিময় হার সরাসরি লেনদেনের পরিমাণ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
ভারতীয় রুপির ক্ষেত্রে কেনা ও বেচা—দুই দরই ১ টাকা ২৮ পয়সা। দুই দেশের ভৌগোলিক নৈকট্য এবং বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের কারণে রুপির বিনিময় হারও বাংলাদেশি গ্রাহকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভারতে চিকিৎসা, শিক্ষা, পর্যটন কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের জন্য এ দর প্রাসঙ্গিক।
অন্যান্য মুদ্রার বিনিময় হার
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ান ডলারের কেনা দর ৮৭ টাকা ৯ পয়সা এবং বেচা দর ৮৭ টাকা ২১ পয়সা। সিঙ্গাপুর ডলারের ক্ষেত্রে কেনা দর ৯৬ টাকা ১৩ পয়সা, আর বেচা দর ৯৬ টাকা ২৪ পয়সা।
চীনা ইউয়ানের কেনা দর ১৮ টাকা ৩১ পয়সা এবং বেচা দর ১৮ টাকা ৩২ পয়সা। অন্যদিকে, জাপানি ইয়েনের ক্ষেত্রে প্রতি ইয়েনের কেনা ও বেচা—দুই দরই ৭৯ পয়সা।
১৯ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত হারগুলো এক নজরে দেখলে বিভিন্ন মুদ্রার বিপরীতে টাকার অবস্থান সহজেই বোঝা যায়।
| মুদ্রা | কেনা দর | বেচা দর |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২২.৯০ টাকা | ১২৩.০০ টাকা |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬৪.৪৫ টাকা | ১৬৪.৬২ টাকা |
| ইউরো | ১৪০.৮৯ টাকা | ১৪১.০৪ টাকা |
| ভারতীয় রুপি | ১.২৮ টাকা | ১.২৮ টাকা |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৭.০৯ টাকা | ৮৭.২১ টাকা |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৬.১৩ টাকা | ৯৬.২৪ টাকা |
| চীনা ইউয়ান | ১৮.৩১ টাকা | ১৮.৩২ টাকা |
| জাপানি ইয়েন | ০.৭৯ টাকা | ০.৭৯ টাকা |
কেনা ও বেচার দর কেন আলাদা
বৈদেশিক মুদ্রার তালিকায় সাধারণত কেনা ও বেচার জন্য আলাদা দর থাকে। একজন গ্রাহক যখন বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করেন, তখন প্রতিষ্ঠানের প্রযোজ্য কেনা দর কার্যকর হয়। আবার গ্রাহক যখন বৈদেশিক মুদ্রা কিনতে চান, তখন বেচা দর প্রযোজ্য হয়। প্রকাশিত তালিকায় বেশির ভাগ মুদ্রার ক্ষেত্রেই এই দুই দরের মধ্যে সামান্য ব্যবধান রয়েছে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হার দেখেই কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে গ্রাহক ঠিক একই দরে লেনদেন করতে পারবেন—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বাস্তব লেনদেনের সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যকর হার, লেনদেনের ধরন এবং প্রযোজ্য অন্যান্য শর্ত বিবেচনায় আসতে পারে।
ফলে বিদেশি মুদ্রা কেনাবেচা, বিদেশে অর্থ পাঠানো কিংবা ভ্রমণের জন্য মুদ্রা সংগ্রহের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ কার্যকর দর জেনে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে প্রতিদিনের বাজার পরিস্থিতি ও মুদ্রাবাজারের পরিবর্তনের কারণে প্রকাশিত হার পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের বেচা দর ১২৩ টাকা, ইউরোর ১৪১ টাকা ৪ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের ১৬৪ টাকা ৬২ পয়সা। পাশাপাশি রুপি, অস্ট্রেলিয়ান ডলার, সিঙ্গাপুর ডলার, ইউয়ান ও ইয়েনের দরও নির্ধারিত হয়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এসব হার তাই দিনের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।









