খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুন ২০২৬, ৮:০ পিএম

পাবনার ঈশ্বরদীতে দোকানের বকেয়া টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মহিলাসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি সোমবার (২২ জুন) দুপুরে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের গড়গড়ি গ্রামে ঘটে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ মে গড়গড়ি গ্রামের কদম আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন ভোলা তার চার বছর বয়সী কন্যাশিশুর শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে একই এলাকার মুদি দোকান ব্যবসায়ী রাহাত আলী প্রামাণিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলার পর রাহাত আলী প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
রাহাত আলী প্রামাণিকের পরিবারের সদস্যদের দাবি, সোমবার দুপুরে তার স্ত্রী কল্পনা খাতুন আনোয়ার হোসেন ভোলার বাড়িতে দোকানের প্রায় ৫ হাজার টাকা বকেয়া চাইতে যান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আনোয়ার হোসেন ভোলা, তার মা রুনি বেগম এবং ভাবী রিমি খাতুন মিলে কল্পনা খাতুনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে উভয় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে ফারুক হোসেন, আব্দুল মমিন, তরিকুল ইসলাম তুষারসহ মোট সাতজন আহত হন। আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সংঘর্ষের পর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ নিজেদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটিয়ে ‘ফাঁসানোর চেষ্টা’ করেছে। তাদের দাবি, এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ভোলার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা | দোকানের বকেয়া টাকা নিয়ে সংঘর্ষ |
| স্থান | গড়গড়ি গ্রাম, সাহাপুর ইউনিয়ন, ঈশ্বরদী, পাবনা |
| সময় | ২২ জুন, সোমবার, দুপুর |
| আহত সংখ্যা | অন্তত ৭ জন |
| আহতদের মধ্যে | মহিলা সহ একাধিক ব্যক্তি |
| চিকিৎসা কেন্দ্র | ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
| মূল অভিযোগ | মারধর, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ |
| পূর্ববর্তী ঘটনা | ২৩ মে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা ও গ্রেপ্তার |
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য