জামায়াত ও ছাত্রদলের সংঘর্ষে ৫ জন আহত

পটুয়াখালীর বাউফলে রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৮টার দিকে উপজেলার নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ৭৭ নম্বর চরওয়াডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের সকলকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় যুব সংগঠন একটি সাংগঠনিক প্রোগ্রাম আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ বাংলাদেশ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা কর্মী সেখানে প্রবেশ করেন। তারা অনুষ্ঠান চলাকালীন অনুমতি ছাড়া কর্মসূচি আয়োজনের কারণ জানতে চাইতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এ পর্যায়ে হাতাহাতি এবং মারামারির ঘটনা ঘটে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ২০–২৫ জন ছাত্রদল নেতা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের সমাবেশে হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে, ছাত্রদল নেতারা দাবি করেন, বিদ্যালয়ে অনুমতি ছাড়া রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন করা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং এ কারণে তারা ঘটনা স্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাদের বক্তব্য, জামায়াত কর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়, যার ফলে দুই নেতা আহত হয়েছেন।

আহতদের নাম ও পরিচয় নিম্নরূপ:

নামবয়সরাজনৈতিক সংগঠনআহত হওয়ার ধরন
সুজন খান২৫জামায়াত যুব সংগঠন নেতামাথা ও হাতে চোট
রাকিব হাসানজামায়াত কর্মীহাতে ও পায়ে চোট
আব্দুল বারেক মাঝিজামায়াত কর্মীলালচে আঘাত ও দগ্ধচিহ্ন
সাইদুল ইসলাম২৩ছাত্রদল নেতাহাত ও পায়ে চোট
জহিরুল ইসলাম সোহাগ২২ছাত্রদল নেতামাথা ও শরীরে চোট

বাউফল থানার ওসি আতিকুল ইসলাম জানান, “ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু বানানোর প্রবণতা নিয়ে। স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন ও law enforcement কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।