যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করে তা যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের জন্য দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে। তাঁর ভাষ্যমতে, এই প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে ইরানের অভ্যন্তরে সম্পন্ন হবে এবং বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে খননের মাধ্যমে এসব উপাদান সংগ্রহ করা হবে, যা পরে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, গত বছরের জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর যে অবশিষ্টাংশ তৈরি হয়েছে, সেটিকে তিনি “পারমাণবিক ধূলি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তা দ্রুত অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান। তাঁর মতে, ওই সামরিক পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।
তবে ইরান এ ধরনের কোনো সমঝোতার সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথাও স্থানান্তর করা হবে না এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর বিষয়টি ইরানের জন্য কোনো বিকল্প নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এ ধরনের কোনো প্রস্তাব কখনোই আলোচনায় আসেনি।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। দেশটির দাবি, এটি তাদের বৈজ্ঞানিক ও জ্বালানি প্রয়োজন মেটানোর অংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে যে, এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে অগ্রসর হতে পারে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর মতে, প্রয়োজনে আলোচনা আরও কয়েক দফা চলতে পারে এবং সপ্তাহান্তেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি ২০ বিলিয়ন ডলারের নগদ অর্থের বিনিময়ে ইউরেনিয়াম চুক্তির বিষয়ে প্রচারিত খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
অন্যদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নৌ-অবরোধ আরোপের চেষ্টা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। দেশটির মতে, এমন পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং মূল বিরোধের বিষয়গুলো নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান | ইরানের অবস্থান |
|---|---|---|
| ইউরেনিয়াম স্থানান্তর | সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার প্রস্তাব | সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি |
| পারমাণবিক কর্মসূচি | অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি হিসেবে দেখা | কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দাবি |
| আলোচনা | চুক্তির সম্ভাবনা ও চলমান আলোচনা | স্থানান্তর ইস্যু আলোচনার বাইরে |
| নৌ-অবরোধ | চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত রাখার ঘোষণা | এটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলা |
ইরানের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকৃত ৯০০ পাউন্ডেরও বেশি ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের পারমাণবিক আলোচনার অন্যতম প্রধান ও জটিল বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
