জাতীয় নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হতেই অন্তর্বর্তী সরকার পুরো প্রশাসনিক কাঠামোকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বুধবার একদিনেই পুলিশ, প্রশাসন এবং অধস্তন আদালতের বিচারকদের মধ্যে এক হাজারের বেশি রদবদল ও পদোন্নতি করা হয়—যা বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম বড় reshuffle।
Table of Contents
কেন এখন এত বড় পরিবর্তন?
নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনই সরকারের সব নীতি ও নিরাপত্তা বাস্তবায়নের মূল ভরসা। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে কি না—তার বড় অংশ নির্ভর করে এসপি, ডিসি ও ইউএনওদের কাজের ওপর। তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে দায়িত্ব বণ্টনে স্বচ্ছতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করতেই কর্মকর্তাদের নতুনভাবে পজিশনিং করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস
একদিন আগেই লটারির মাধ্যমে ৬৪ জেলার এসপি নির্ধারণ করা হয়, যাতে পারদর্শিতা ও নিরপেক্ষতার বার্তা যায়। এরপর আনুষ্ঠানিক বদলির মাধ্যমে—
- ৫০ এসপিকে জেলাবদলি,
- ১৪ কর্মকর্তাকে নতুন এসপি হিসেবে নিয়োগকরা হয়।
- এ ছাড়া ডিআইজি পদে ৩৩ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি পুলিশের উচ্চপর্যায়ে নেতৃত্ব পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেয়।
এত বড় পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচনকালে পুলিশকে কর্মক্ষম ও চাপমুক্ত রাখতে চাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার—এমনটাই ধারণা বিশ্লেষকদের।
প্রশাসনে ইউএনও–ডিসির নতুন নিয়োগ
রাষ্ট্রের মাঠ প্রশাসন, বিশেষ করে ডিসি ও ইউএনওরা ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মধ্যমণি হিসেবে কাজ করেন। এরই অংশ হিসেবে সরকার সম্প্রতি ৫০ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেয় এবং বুধবার ১৬৬ জন সিনিয়র সহকারী সচিবকে ইউএনও বানিয়ে উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব স্থাপন করে।
তবে নির্বাচন কমিশন এখনো রিটার্নিং কর্মকর্তাদের তালিকা প্রকাশ না করায় মাঠপর্যায়ে কিছুটা অপেক্ষার অবস্থা বিরাজ করছে।
বিচার বিভাগে বড় ধরনের পদোন্নতি
অধস্তন আদালতে ৮২৬ বিচারককে তিন ধাপে পদোন্নতি—
- ২৫০ জেলা জজ
- ২৯৪ অতিরিক্ত জেলা জজ
- ২৮২ যুগ্ম জেলা জজ
নির্বাচন শুরুর আগে বিচার বিভাগে এই পদোন্নতি মামলা নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করা ও আদালতের প্রশাসনিক কাঠামোকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন আদালত–বিশ্লেষকরা।
জেলায় জেলায় নতুন এসপি—নির্বাচনের মাঠ কে দেখবেন
দেশের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই নতুন বা বদলিপ্রাপ্ত এসপি দায়িত্ব পাচ্ছেন। ঢাকার এসপি কুমিল্লায়, নারায়ণগঞ্জের এসপি কুষ্টিয়ায়, গাজীপুরের এসপি জামালপুরে—এভাবে সারাদেশের জেলা পুলিশ নেতৃত্ব পুনরায় সাজানো হয়েছে।
এতে পুরোনো প্রশাসনিক চক্র ভেঙে নতুন গতিশীলতা আনার চেষ্টা স্পষ্ট।
একযোগে পুলিশ, প্রশাসন ও বিচার বিভাগে এই ‘মেগা শফল’ নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ। মাঠপর্যায়ে একই দিনে এত বড়সড় বদলি বাংলাদেশে সচরাচর দেখা যায় না। সরকার মনে করছে—নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনায় নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও আইন–শৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কার্যকারিতা নিশ্চিত হবে।
