নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ জল্লাপাড়া এলাকার নগর উদ্যানে অবস্থিত হ্রদের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুই শিশু আপন দুই ভাই। গতকাল শুক্রবার রাত প্রায় সাড়ে বারোটার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা হ্রদ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত দুই ভাইয়ের মধ্যে একজনের নাম আল আমিন, বয়স দশ বছর এবং অপরজন ইব্রাহিম, বয়স আট বছর। তাদের পিতার নাম শাহ আলম। তিনি পেশায় রিকশাচালক। পরিবারটি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর খিলমার্কেট এলাকায় বসবাস করত।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে দুই শিশু মেলায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তারা আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাদের খোঁজ করেন, তবে কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে রাতের দিকে নগর উদ্যান এলাকার হ্রদের পাড়ে তাদের ব্যবহৃত পাঞ্জাবি ও জুতা পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় লোকজন হ্রদের পানিতে তল্লাশি শুরু করেন। তল্লাশির এক পর্যায়ে প্রথমে আল আমিনের মরদেহ এবং কিছু সময় পর ইব্রাহিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর দুই শিশুকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহত শিশু | আল আমিন (১০), ইব্রাহিম (৮) |
| পিতার নাম | শাহ আলম |
| পেশা | রিকশাচালক |
| বসবাসের এলাকা | কাশিপুর খিলমার্কেট, নারায়ণগঞ্জ সদর |
| ঘটনার স্থান | দেওভোগ জল্লাপাড়া নগর উদ্যানের হ্রদ |
| ঘটনার সময় | শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটা |
| মরদেহ উদ্ধারকারী | স্থানীয় বাসিন্দারা |
| চিকিৎসা কেন্দ্র | নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল |
ঘটনাস্থলে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হ্রদের পাড়ে শিশু দুটির পরনের কাপড় ও জুতা পড়ে থাকতে দেখা যাওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান শুরু হয়। পরে পানির ভেতর থেকে দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান জানান, দুই শিশুর মৃত্যু হ্রদের পানিতে ডুবে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিবারের সদস্যরা দুই শিশুর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। ঘটনাটি ঘটার পরপরই এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরবর্তী কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।
