মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত চত্বরে অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা বাড়ছে। এই সপ্তাহের শুরুতে হিউস্টনের একটি ফেডারেল আদালতে আশ্রয় আবেদন বাতিল হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অস্কার গাটো সানচেজ নামে এক কিউবান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। হিউস্টন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারের সময় সাদা পোশাকের কর্মকর্তারা তাকে নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে এএফপিকে সানচেজ বলেন, ‘আমি কিউবার নাগরিক, আমাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন তার ৫৪ বছর বয়সী ফুফু, যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ বাসিন্দা ওলেইডিস সানচেজ।
সানচেজকে একটি চিহ্নহীন গাড়িতে তুলে হিউস্টন থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কনরো অভিবাসন আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে আরও ডজনখানেক অভিবাসী প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
আদালত চত্বরে ধরপাকড় বেড়েছে
সম্প্রতি মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আদালত চত্বরে অভিযান ও ধরপাকড় বাড়িয়েছে। হাজার হাজার অভিবাসী আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। অধিকারকর্মীরা অভিযোগ করছেন, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর কর্মকর্তারা বেশিরভাগ সময় পরিচয়পত্র ছাড়া কিংবা মুখ ঢেকে আদালত এলাকায় প্রবেশ করছেন।
২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে আইসিই আদালত প্রাঙ্গণে সরাসরি অভিযান চালানোর অনুমতি পায়। এএফপি জানিয়েছে, নিউ ইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে এ ধরনের গ্রেপ্তার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আদালতের দরজায় গ্রেপ্তার
অস্কার গাটো সানচেজ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, তাকে আদালতে হাজিরা দিতে বলা হয়। গত মে মাসে তিনি আশ্রয়ের আবেদন করেন এবং সোমবার হিউস্টনের আদালতে শুনানিতে যান। কিন্তু সরকারি কৌঁসুলি জানিয়ে দেন, ‘মামলাটি সরকারের স্বার্থে নেই।’
এরপরপরই আশ্রয় আবেদন বাতিল এবং মামলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। ওই মুহূর্তেই তাকে আটক করা হয়। তার পক্ষে আইনি সহায়তায় এগিয়ে আসা আইনজীবী বিয়াঙ্কা সান্টোরিনি জানান, ‘আশ্রয় আবেদন বাতিল হওয়ার পর তার কোনো বিচারাধীন বিষয় থাকেনি। সেখানেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
আদালতের ভেতরে তথ্যদাতা রয়েছে দাবি
সান্টোরিনি অভিযোগ করেন, আইসিই-এর ‘তথ্যদাতা’ আদালতের ভেতরে অবস্থান করছে। তারা আগে থেকেই জানে কার রায় কী হয়েছে।
অভিবাসন অধিকার সংগঠন ‘এফআইইএল’-এর নির্বাহী পরিচালক সিজার এস্পিনোসা বলেন, ‘অধিকাংশ অভিবাসী নিয়ম মেনেই আদালতে উপস্থিত হন। তারা আইনের মাধ্যমে বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।’
এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসের এক হোম ইমপ্রুভমেন্ট স্টোরের বাইরে অভিবাসীদের লক্ষ্য করে আইসিই অভিযান চালালে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার জেরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাশনাল গার্ড ও মেরিন সেনা মোতায়েনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেন।
এস্পিনোসা বলেন, ‘যখন অভিবাসীরা অর্থনীতি, সেবাখাত এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন, তখন কেউ কিছু বলে না। কিন্তু যখন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তখনই অনেকে অভিযোগ তোলে।’
