মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা সোমবার মধ্যরাতের পর থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে এক ডজন দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের বিতর্কিত এই নীতিকে নতুন করে চালু করা হলো।
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দুয়ার অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও কঠোর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা বেশিরভাগ দেশেরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক রয়েছে। ইরান ও আফগানিস্তানের মতো দেশ ছাড়াও হাইতি ও লিবিয়ার মতো সংকটাপন্ন দেশগুলো এই তালিকায় রয়েছে।
Table of Contents
পটভূমি ও কারণ:
গত সপ্তাহে নতুন বিধিনিষেধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি জানান, কলোরাডোতে ইহুদিদের ওপর ‘সন্ত্রাসী হামলা’র ঘটনায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই সময় গাজায় জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে একদল মানুষ বিক্ষোভ করছিল। তাদের ওপর হামলা চালায় এক ব্যক্তি, যার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল।
ট্রাম্প বলেন, এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, “আমাদের দেশে অপর্যাপ্তভাবে যাচাই করা ব্যক্তিদের প্রবেশ কীভাবে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করে।”
যে দেশগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায়:
আফগানিস্তান, মিয়ানমার, শাদ, কঙ্গো-ব্রাজাভিল, নিরক্ষীয় গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান এবং ইয়েমেনের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আংশিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান এবং ভেনেজুয়েলার ভ্রমণকারীদের ওপর। এসব দেশ থেকে কিছু নির্দিষ্ট অস্থায়ী কাজের ভিসা দেওয়া হবে।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা হুমকির আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে” আরও দেশ এই তালিকায় যোগ হতে পারে।
ব্যতিক্রম:
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ ও ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদ এবং লক্ষ্যবস্তুভুক্ত দেশগুলোর কূটনীতিকরা এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবেন।
প্রতিক্রিয়া:
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক সতর্ক করেছেন, এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাপকতা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগজনক।
মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা একে কঠোর ও অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইরানি-আমেরিকান কংগ্রেস সদস্য ইয়াসামিন আনসারি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, “এই নিষ্ঠুর নিষেধাজ্ঞার যন্ত্রণা আমি জানি, কারণ আমার পরিবার সরাসরি তা অনুভব করেছে।”
আরও তথ্য:
কলোরাডোর ওই হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মিশরীয় নাগরিক মোহাম্মদ সাবরি সোলিমান ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন। যদিও ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় মিশরের নাম নেই।
ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, আফগানিস্তান, লিবিয়া, সুদান, সোমালিয়া ও ইয়েমেনের মতো দেশে পাসপোর্ট যাচাই ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য দক্ষ কর্তৃপক্ষের অভাব রয়েছে। ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক’ উল্লেখ করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অন্যান্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করছে, তাদের নাগরিকেরা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যেতে পারে।
