বাণিজ্যযুদ্ধের চাপের মুখে চীনের রপ্তানি কমেছে

মে মাসে চীনের রপ্তানি প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে বেড়েছে। সোমবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব এবং উচ্চ শুল্কের কারণে রপ্তানিতে এই ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক বৃদ্ধির কারণে চীনের মার্কিন বাজারে রপ্তানি মে মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এরই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে চীনের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৮ শতাংশ কমেছে। যদিও এপ্রিলের তুলনায় অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবে অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস করা ৬ শতাংশ হ্রাসের তুলনায় এটি এখনও উদ্বেগজনক।

এ সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি ১২.৭ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র থেকেও চীনে আমদানি ১৭.৯ শতাংশ কমে গেছে। কারণ, বেইজিং পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে।

মে মাসে চীনের সামগ্রিক রপ্তানি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে ভিয়েতনামে রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ দেশেই রপ্তানি কমেছে।

পিনপয়েন্ট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ ঝিভেই ঝ্যাং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির বড় ধরনের পতন কিছুটা অন্যান্য বাজারে প্রবৃদ্ধি দিয়ে সামাল দেওয়া গেলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি বেশ অনিশ্চিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য শুল্ক এড়াতে আগেভাগে পণ্য পাঠানোর প্রবণতা (ফ্রন্টলোডিং) বাজারের গতি ব্যাহত করছে।’

চীনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে সোমবার প্রকাশিত মূল্যসূচকের তথ্যও। জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (এনবিএস) তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) ০.১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এটি ধারাবাহিকভাবে চতুর্থ মাসের মূল্যহ্রাসের ইঙ্গিত।

এছাড়া, উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ৩.৩ শতাংশ কমেছে, যা এপ্রিলের ২.৭ শতাংশ হ্রাস এবং পূর্বাভাসের তুলনায়ও বেশি।

এমন পরিস্থিতিতে সোমবার লন্ডনে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্য আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।

আলোচনায় চীনের বিরল খনিজ রপ্তানি, যা ইলেকট্রিক গাড়ি এবং প্রযুক্তি শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও একটি প্রধান ইস্যু হিসেবে আলোচনায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, মে মাসে চীন ৫,৮৬৫ টন বিরল খনিজ রপ্তানি করেছে, যা এপ্রিলের তুলনায় বেশি।

লন্ডনের এই বৈঠক হবে এপ্রিলে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পর দ্বিতীয় দফা আনুষ্ঠানিক আলোচনা। বৈঠকটি ট্রাম্প এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ফোনালাপের পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এর আগে মে মাসের মাঝামাঝি জেনেভায় প্রথম দফার আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত হলেও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি হয়নি।