আমিনুল ইসলাম দানেশ মিয়া (২০ অক্টোবর ১৯১৯–২৩ জানুয়ারী ২০০৬) বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলার রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক যিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও তৎকালীন ফরিদপুর-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
Table of Contents
আমিনুল ইসলাম দানেশ মিয়া

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
আমিনুল ইসলাম দানেশ মিয়া ২০ অক্টোবর ১৯১৯ সালে শরীয়তপুরের জাজিরার কবিরাজকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মুন্সি বিনাউল্লাহ। স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা ছিলেন মতিঝিল সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও মাদারীপুর মহিলা সমিতির প্রাক্তন সভানেত্রী। তাদের পালক কন্যা রাফিয়া আক্তার ডলি।
তিনি জাজিরা স্টাফেন্টন মুসলিম মিডল ইংলিশ স্কুল থেকে শিক্ষা জীবন শুরু করে লোনসিং হাই স্কুল হতে ১৯৪০ সালে মেট্রিক পাস করেন। মুন্সিগঞ্জের সরকারি হরগঙ্গা কলেজে লেখাপড়া করে কোলকাতা হতে মোক্তারশীপ ডিগ্রী অর্জন করেন করেন।
রাজনৈতিক ও কর্মজীবন
আমিনুল ইসলাম দানেশ মিয়া জানুয়ারী ১৯৪৮ সালে মাদারীপুরের মোক্তার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৪৯ সালে মাদারীপুর মহকুমা মুসলিম লীগের সহকারী সম্পাদক হিসেবে সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এর আগে তিনি মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য ছিলেন। ১৯৫২ সালে আওয়ামীলীগে যোগদান করে তৎকালীন মাদারীপুর মহকুমা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছয় দফা আন্দোলনে মাদারীপুরে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে তিনি ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ থেকে ১৯ ৭৩ সাল পর্যন্ত গণপরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ও ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রনয়নে ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ফরিদপুর-১৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে অবিভক্ত মাদারীপুর মহকুমার বাকশালের সাধারণ সম্পাদক মনোনিত হন। ১৯৯২ সালে তিনি ঢাকাস্থ শরীয়তপুর জেলা উন্নয়ন সমিতির সভাপতি ছিলেন।

মৃত্যু
আমিনুল ইসলাম দানেশ মিয়া ২৩ জানুয়ারী ২০০৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
সংসদ সদস্য:
সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।

পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।
অবস্থান
সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।
সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুনঃ






