নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে নিখোঁজের একদিন পর মো. আইয়ুব হোসেন নামে এক ভাঙাড়ি ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কাঁচপুরের ‘জালালাবাদ ওষুধ কোম্পানি’র পেছনে একটি ভাঙাড়ির গোডাউনের পাশের ডোবা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত আইয়ুব হোসেন কাঁচপুর উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলতাফ হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে ভাঙাড়ির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তাপ্রহরী জামিল হোসেন নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তবে তার সঙ্গে আইয়ুব হোসেনের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে তদন্তের আগে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি পুলিশ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত থেকে আইয়ুব হোসেন নিখোঁজ ছিলেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এরপর পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরিচিতজনদের কাছেও তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু রাত পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বুধবার সকালে কাঁচপুরের ‘জালালাবাদ ওষুধ কোম্পানি’র পেছনে একটি ভাঙাড়ির গোডাউনের পাশের ডোবায় স্থানীয়দের নজরে আসে একটি বস্তা। পানিতে ভাসতে থাকা বস্তাটি দেখে তাদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হলে তারা দ্রুত সোনারগাঁ থানা পুলিশকে খবর দেন।
সংবাদ পেয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ ডোবা থেকে বস্তাটি উদ্ধার করে। বস্তার মুখ খোলার পর এর ভেতরে এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহটির হাত-পা বাঁধা ছিল। পরে স্বজনরা মরদেহটি আইয়ুব হোসেনের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যায়ের উদ্ধার কার্যক্রমের পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে যেতে চাইছে না তদন্তকারী সংস্থা।
আইয়ুব হোসেন কীভাবে নিখোঁজ হলেন, শেষবার তাকে কোথায় দেখা গিয়েছিল এবং কীভাবে তার মরদেহ ডোবার বস্তায় পৌঁছাল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে তার নিখোঁজ হওয়ার সময়, ঘটনাস্থলের আশপাশে কারা ছিলেন এবং ডোবায় মরদেহ ফেলে যাওয়ার সঙ্গে কেউ জড়িত কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
নিরাপত্তাপ্রহরী জামিল হোসেনকে আটকের বিষয়টিও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আইয়ুব হোসেনের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হওয়া মানেই ওই ব্যক্তি ঘটনায় জড়িত—এমন কোনো তথ্য পুলিশ এখনো দেয়নি।
নারায়ণগঞ্জের ‘খ’ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষ বলেন, আইয়ুব হোসেনের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা এখনো জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আইয়ুব হোসেনের নিখোঁজ হওয়া থেকে শুরু করে ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের পুরো ঘটনাপ্রবাহই এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে।









