শেয়ারবাজারে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারের দামে সাম্প্রতিক বড় উত্থানের পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য বা পরিচালনাগত সিদ্ধান্ত নেই বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শেয়ারের দাম ও লেনদেনের পরিমাণে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের পর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) করা এক আনুষ্ঠানিক জিজ্ঞাসার জবাবে এ তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি।
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সিএসই বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্সের কাছে ব্যাখ্যা চায়। সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের বাজারদরে দ্রুত উত্থান এবং লেনদেনের গতিবিধি পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে এই জিজ্ঞাসা করা হয়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্সের শেয়ারের দর ছিল ১০৬ টাকা ২০ পয়সা। এরপর দর প্রায় ৩১ শতাংশ বেড়ে ১৩৮ টাকা ৮০ পয়সায় পৌঁছায়। স্বল্প সময়ের মধ্যে এ ধরনের উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়েছিল সিএসই।
জবাবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, শেয়ারের দাম ও লেনদেনের সাম্প্রতিক পরিবর্তন ব্যাখ্যা করার মতো কোনো অপ্রকাশিত তথ্য তাদের কাছে নেই। একইভাবে এমন কোনো পরিচালনাগত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি, যা শেয়ারের বাজারদরে এই অস্বাভাবিক গতিবিধির কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্সের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা রয়েছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের হাতে। কোম্পানিটি ২০১৬ সালে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। সম্প্রতি ২০২৫ সালের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ওই লভ্যাংশের হার ছিল ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।
শেয়ারের দামে বড় উত্থানের পাশাপাশি কোম্পানিটির সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক ফলাফলেও বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩৯ পয়সা। ২০২৫ সালের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৯৮ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় ৪১ পয়সা বেড়েছে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের হিসাবেও ইপিএসের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৬ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ২ টাকা ৪ পয়সা। ফলে ছয় মাসের ব্যবধানে ইপিএস বেড়েছে ৯৬ পয়সা।
পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ বা এনওসিএফপিএস বেড়ে ৫ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সূচক ছিল ২ টাকা ৩ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এনওসিএফপিএস বেড়েছে ৩ টাকা ৫৭ পয়সা।
কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিও বেড়েছে। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে এনএভি ছিল ৩৪ টাকা ২৬ পয়সা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ পরিমাণ ছিল ৩১ টাকা ২৬ পয়সা। ছয় মাসের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৩ টাকা।
পরিচালন নগদ প্রবাহ বৃদ্ধির কারণও ব্যাখ্যা করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স। কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ছয় মাসে দাবি পরিশোধের পরিমাণ কমে আসা এবং ব্যবস্থাপনা ব্যয় কম হওয়ায় নগদ প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি পুনর্বীমা ব্যয় আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। এজেন্সি কমিশনের ক্ষেত্রেও ছাড় পাওয়া গেছে, যা এনওসিএফপিএস বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
ফলে কোম্পানিটির সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দুটি বিষয় পাশাপাশি উঠে এসেছে। একদিকে ৩০ আগস্টের ১০৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে শেয়ারের দর বেড়ে ১৩৮ টাকা ৮০ পয়সায় উঠেছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির ইপিএস, পরিচালন নগদ প্রবাহ এবং এনএভিতে আগের বছরের তুলনায় উন্নতি হয়েছে।
তবে এই আর্থিক সূচকগুলোর উন্নতির বাইরে কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য বা নতুন পরিচালনাগত সিদ্ধান্ত শেয়ারের সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক গতিবিধির কারণ নয় বলে সিএসইকে জানিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স। কোম্পানিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য দৃশ্যমান তথ্যের মধ্যে রয়েছে প্রথমার্ধের আর্থিক ফলাফল, পরিচালন নগদ প্রবাহের উন্নতি, নিট সম্পদমূল্য বৃদ্ধি এবং ২০২৫ সালের ২২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ।









