ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে আনিছুর রহমান (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর ভাই স্বপন কর্মকার (৪২) বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
গ্রেপ্তার আনিছুর রহমান মহেশপুর উপজেলার গোকুলনগর গ্রামের মৃত সোনাই মণ্ডলের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর স্বরূপপুর ইউনিয়নের করিঞ্চা খামার এলাকায় ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। মামলায় বলা হয়েছে, একটি পেঁয়াজখেতের পাশে থাকা কুঁড়েঘরে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় যোগাযোগ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে তার ভাই স্বপন কর্মকার বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।
পুলিশ জানায়, মামলায় আনিছুর রহমানকে এজাহারনামীয় প্রধান আসামি করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজাদ রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানোর আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তে চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য পর্যালোচনা করা হবে।
এ ধরনের ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত ও আদালতের আইনগত প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। ফলে গ্রেপ্তার করা হলেও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনিছুর রহমানকে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে; আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে দোষী নন।
পুলিশ বলছে, মামলার তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়াও চলছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় যাতে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আদালতের কার্যক্রমের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র এবং মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারিত হবে।









