,

চুরি হওয়া গরু বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে, এলাকায় উত্তেজনা

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে চুরি যাওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় একটি গরু স্থানীয় এক বিএনপি নেতার গোয়ালঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গরুটি উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ওই নেতার বাড়ির সামনে স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং গরুটি জব্দ করে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ৯ নম্বর ভোলাকোট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের টিওড়ি গ্রামের বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। দেলোয়ার হোসেন ভোলাকোট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে পাশের নলচরা গ্রাম থেকে এক দিনমজুরের একটি গরু চুরি হয়। গরু হারানোর পর মালিকের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ শুরু করেন। কয়েক দিন ধরে খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে খবর ছড়িয়ে পড়ে, চুরি যাওয়া গরুটির সঙ্গে মিলে যায় এমন একটি গরু দেলোয়ার হোসেনের গোয়ালঘরে রয়েছে।

খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে রামগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লোকজনকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গোয়ালঘর থেকে গরুটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।

তবে চুরি যাওয়া গরুটি কীভাবে দেলোয়ার হোসেনের গোয়ালঘরে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গরুটি সেখানে রাখার সঙ্গে দেলোয়ার হোসেনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আগে বলা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ৩ নম্বর ভাটরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর নলচরা ওয়ার্ড বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক তাজু তিন দিন আগে ভোরে তার গোয়ালঘরে গরুটি বেঁধে রেখে যান। তার ভাষ্য, তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই গরুটি সেখানে রাখা হয়েছে। গরুটি কীভাবে তার গোয়ালঘরে এলো, এ বিষয়ে তিনি আর কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিকভাবেও দলীয় পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভোলাকোট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম মজুমদার জানান, সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী দেলোয়ার হোসেনকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাকে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গরুটি কীভাবে ওই গোয়ালঘরে গেল এবং এর সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় গরুটির প্রকৃত মালিকানা, চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এবং গরুটি দেলোয়ার হোসেনের গোয়ালঘরে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। পুলিশের তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় কার, তা স্পষ্ট হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।