চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের চাঁদপুর সদর উপজেলার মান্দারী এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পিকআপ ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে মহামায়া সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও দুজন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চাঁদপুর থেকে যাত্রী নিয়ে হাজীগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। পথে মান্দারী এলাকায় মহাসড়কের ওপর সামনে থাকা একটি প্রাইভেটকার হঠাৎ ব্রেক করে। এতে পেছনে থাকা অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে প্রাইভেটকারে ধাক্কা দেয়। পরে অটোরিকশাটি সামনে থাকা একটি পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
মুহূর্তের মধ্যেই তিনটি যানবাহনের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশার চালক ও যাত্রীরা সড়কে ছিটকে পড়েন। এতে অটোরিকশায় থাকা চারজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের চাঁদপুরের ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহতদের মধ্যে অটোরিকশার যাত্রী মোহর আলী (৬০) ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ফতেহপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত ওমর আলীর ছেলে।
অন্যদিকে, গুরুতর আহত অটোরিকশাচালক কবির মালকে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ফলে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় দুজনে। আহত অপর দুজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। সড়কে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন থাকায় অন্যান্য গাড়িকে ধীরগতিতে চলাচল করতে হয়েছে। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকদের সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়ে আসে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে পুলিশের বক্তব্যে প্রাইভেটকারের হঠাৎ ব্রেক করার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে সংঘর্ষের পুরো পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। মহাসড়কে চলাচলের সময় সামনে থাকা যানবাহনের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং আকস্মিকভাবে গতি কমে গেলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সক্ষমতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
একটি অটোরিকশা একই দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকার ও পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি গুরুতর আকার নেয়। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি আরও দুজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর দ্রুত স্থানীয়দের এগিয়ে আসা এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার মধ্য দিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়।









