ইসলামের মহান ও পবিত্র আদর্শকে পাথেয় করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও স্বার্থরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের কাছে যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সময়সূচি অনুযায়ী তিনি তা একটি একটি করে বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নরসিংদীর পলাশ উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ইসলামের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সমগ্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অনন্য, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় দিন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর পূর্ণাঙ্গ জীবনকালে মানবজাতির সামাজিক মুক্তি, সার্বিক কল্যাণ ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় যে সর্বজনীন নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, তা আমাদের জন্য চিরন্তন পাথেয়। তাঁর দেখানো উদারতা, সততা ও সুশাসনের পথ অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করাই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের মূল ব্রত হওয়া উচিত।
ইসলামি শিক্ষার মূল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় জীবনযাপন ও নৈতিকতা ধরে রাখতে হলে পবিত্র কোরআনের বার্তার পাশাপাশি রসূলের (সা.) সুন্নাহ ও হাদিস দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমে ধারণ করতে হবে। কারণ নীতি, মূল্যবোধ ও শান্তির পথ চলাই ইসলামের আসল প্রেরণা। বিএনপি সবসময় গণমানুষের সামাজিক সুরক্ষা, রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার অক্ষুণ্ণ রেখে দেশে এক ইতিবাচক ও উন্নয়নমুখী রাজনৈতিক ধারা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার সুফল এখন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে।
পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন ভূঁইয়া মিলটনের সঞ্চালনায় এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সহধর্মিণী এবং দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার, নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, পলাশ থানা বিএনপির সিনিয়র সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লাসহ স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সংগঠনের অন্য নেতৃবৃন্দ।
এর আগে মধ্যাহ্নে মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান তাঁর নিজ গ্রাম চরনগরদীতে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছেই তিনি পারিবারিক কবরস্থানে যান এবং তাঁর পিতা, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী মরহুম আবদুল মোমেন খান ও মাতা মরহুমা খোরশেদা বানুর কবর জিয়ারত করেন। জিয়ারত শেষে মরহুম বাবা-মায়ের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
জিয়ারতের সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত কেয়া, জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মারুফ এবং পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশতিয়াক আহমেদসহ জেলা ও উপজেলার একাধিক ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। মন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে বিশেষ আগ্রহ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।









