জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

বিশ্বজুড়ে সব ধরনের মার্কিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা এসেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে চলেছেন। এর ধারাবাহিকতায় এবার বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রার্থীদের সব ধরনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন প্রশাসন। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হাজার হাজার আবেদনকারী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস এবং কনস্যুলেটে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিশেষ বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মূলত ভিসাসেবা সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এই খবরটি প্রথম প্রকাশ করে। তারা জানায়, যেসব আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নির্ধারিত ছিল, তাদের কাছে ই-মেইল পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে এবং নতুন তারিখ পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে এই প্রশিক্ষণ ঠিক কত দিন চলবে বা এর সুনির্দিষ্ট সময়সূচি কী, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
কর্মকর্তাদের এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে, যেসব আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাদের যেন আরও নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা যায়। একই সঙ্গে ভিসাপ্রার্থীদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া যেন আরও কঠোর ও ধারাবাহিক হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান ও কড়াকড়ি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার অজুহাতে আগ্রাসীভাবে অভিবাসী বহিষ্কারের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকেও কঠিন করে তোলা হচ্ছে। ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ কিংবা ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো নানা অজুহাতে বহু মানুষের মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
এদিকে প্রশাসনের এই কঠোর নীতির বিরুদ্ধে এরই মধ্যে আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক এমন একটি নীতি বাতিল ঘোষণা করেছেন, যার আওতায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল। বিচারকের মতে, ওই নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসছে না।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশাসনের এই বৈষম্যমূলক ও কড়াকড়ি নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই অভিযানের ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুরা একটি অনিরাপদ ও ভয়ের পরিবেশের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অভিবাসন পুরোপুরি বন্ধের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বর্তমান পদক্ষেপে স্পষ্ট যে তারা এখন বৈধ অভিবাসনের পথও সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত দুরূহ করে তুলছেন।
Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর