জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

বাপ্পা-উজ্জালের সৃষ্টিতে মিলল গান ও দৃশ্য

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সংগীত ও চলচ্চিত্র—দুটি আলাদা সৃষ্টিশীল মাধ্যম। এবার এই দুই মাধ্যমের ভাবনা একসূত্রে গাঁথা হয়েছে নতুন গান ‘গলে যাওয়া সময়’-এ। সংগীতশিল্পী ও সুরকার বাপ্পা মজুমদারের গানটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জাল। শনিবার রাতে গানটির পাশাপাশি প্রকাশ করা হয়েছে এর সংগীতচিত্র। ফলে শ্রোতারা শুধু একটি নতুন গানই নয়, সেই গানের আবহ ও অনুভূতিকে দৃশ্যের মাধ্যমে দেখার সুযোগও পাচ্ছেন।

‘গলে যাওয়া সময়’-এর কথা, সুর ও কণ্ঠ—সবই বাপ্পা মজুমদারের। অন্যদিকে গানটির দৃশ্যধারণ ও নির্মাণ করেছেন মাসুদ হাসান উজ্জাল। একই সৃষ্টিতে একজন সংগীতশিল্পীর ব্যক্তিগত অনুভব এবং একজন চলচ্চিত্র নির্মাতার দৃশ্যভাষা যুক্ত হওয়ায় গানটির উপস্থাপনায় ভিন্ন মাত্রা তৈরি হয়েছে।

তিন দশকের বেশি সময় ধরে দেশের সংগীতাঙ্গনে সক্রিয় বাপ্পা মজুমদার। গায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ক্যারিয়ারের বড় একটি সময়ে নিজের গান পরিবেশনের জন্য বিভিন্ন গীতিকারের লেখা ব্যবহার করেছেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিজের ভাবনা ও অনুভূতি নিজের ভাষায় প্রকাশ করার প্রবণতা তাঁর কাজে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নিজের লেখা গান করার ক্ষেত্রে বাপ্পার কাছে ব্যক্তিগত অনুভূতিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নিজের অভিজ্ঞতা, উপলব্ধি কিংবা মনের ভেতরের কথাগুলো যখন নিজের লেখা কথায় প্রকাশ পায়, তখন গানটির সঙ্গে শিল্পীর ব্যক্তিগত সম্পর্কও আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ‘গলে যাওয়া সময়’-এও সেই নিজস্বতার ছাপ রয়েছে। কথা, সুর ও কণ্ঠ একই শিল্পীর হওয়ায় গানটির পুরো সৃষ্টিপ্রক্রিয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত সংগীতভাবনা সরাসরি প্রতিফলিত হয়েছে।

এর আগে প্রকাশিত ‘বুড়ো নাবিকের গল্প’ গানেও একইভাবে নিজের লেখা ও সুরকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন বাপ্পা। নতুন গানেও সেই ধারাই অব্যাহত রেখেছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে নিজের কথা ও সুরে গান তৈরির যে প্রবণতা তাঁর কাজে দেখা যাচ্ছে, ভবিষ্যতেও এমন আরও সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে মাসুদ হাসান উজ্জাল চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পরিচালক হিসেবে পরিচিত। সংগীতের প্রতিও তাঁর আগ্রহ রয়েছে, যদিও নিয়মিত সংগীতচিত্র নির্মাণ তাঁর কাজের প্রধান অংশ নয়। ‘গলে যাওয়া সময়’ শোনার পর গানটির আবহ ও বক্তব্য তাঁকে আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে গানের অনুভূতিকে দৃশ্যের মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ থেকেই তিনি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত হন।

গানটির সংগীতচিত্রে তাই শুধু গানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু দৃশ্য দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং সংগীতের অনুভূতিকে একটি দৃশ্যমান অভিজ্ঞতায় রূপ দেওয়ার প্রয়াস রয়েছে। শ্রুতিনির্ভর একটি সৃষ্টিকে দৃশ্যনির্ভর মাধ্যমে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার এই পদ্ধতি বাংলা গানের সংগীতচিত্র নির্মাণে আলাদা আগ্রহ তৈরি করতে পারে।

বাপ্পা মজুমদার ও মাসুদ হাসান উজ্জালের এই সহযোগিতাকে সেই অর্থে কেবল গায়ক ও নির্মাতার যৌথ কাজ হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি ধরা পড়বে না। এখানে দুটি ভিন্ন শিল্পমাধ্যমের ভাষা একে অন্যকে সম্পূরক করেছে। বাপ্পার সুর ও কণ্ঠ যেখানে অনুভূতির মূল ভিত্তি তৈরি করেছে, সেখানে উজ্জালের নির্মাণ সেই অনুভূতিকে দৃশ্যের পরিসরে নিয়ে গেছে।

বর্তমান সময়ে গান প্রকাশের সঙ্গে সংগীতচিত্রের গুরুত্বও বেড়েছে। শ্রোতারা এখন একটি গান শোনার পাশাপাশি সেটির দৃশ্যায়ন, নির্মাণভাবনা ও উপস্থাপনাও গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। ফলে একটি গানের সাফল্যে শুধু সুর বা কণ্ঠ নয়, দৃশ্যমান উপস্থাপনাও ভূমিকা রাখতে পারে। ‘গলে যাওয়া সময়’ সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি একটি কাজ।

নিজের লেখা ও সুরে ধারাবাহিকভাবে গান প্রকাশের মাধ্যমে বাপ্পা মজুমদার তাঁর সৃষ্টিশীলতার আরেকটি দিক সামনে আনছেন। আর মাসুদ হাসান উজ্জালের নির্মাণ সেই সংগীতভাবনাকে ভিন্ন শিল্পমাধ্যমে অনুবাদ করেছে। দুই অভিজ্ঞ সৃষ্টিশীল মানুষের এই সমন্বয় নতুন গানটির প্রতি শ্রোতা ও দর্শকদের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সংগীতচিত্র নির্মাণে আরও আন্তঃমাধ্যমভিত্তিক কাজের সম্ভাবনাও তৈরি করছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর