দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর উদ্যোগে ক্রিকেট সংস্থা গঠন এবং ক্রিকেটের উন্নয়ন, আয়োজন ও প্রচারের নামে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নজরে এসেছে। এসব উদ্যোগ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে এবার সতর্কবার্তা দিয়েছে বিসিবি। সংস্থাটির অনুমোদন ছাড়া কোনো সংগঠন নিজেদের ‘জেলা ক্রিকেট সংস্থা’ হিসেবে পরিচয় দিতে পারবে না বলে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উদ্যোগে গঠিত এসব সংস্থা, সংগঠন কিংবা কমিটির সঙ্গে বোর্ডের কোনো ধরনের সম্পর্ক, অনুমোদন, স্বীকৃতি বা প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা নেই। ফলে এ ধরনের কোনো সংগঠনকে বিসিবির অনুমোদিত বা স্বীকৃত জেলা ক্রিকেট সংস্থা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
বিসিবি বলছে, দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের কাঠামো নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বিধানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সংস্থাটির সংবিধানের ৬.২ অনুচ্ছেদে সারা দেশে ক্রিকেট সংগঠনের সম্প্রসারণ ও সমন্বয়ের পাশাপাশি বোর্ড নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী আঞ্চলিক ও জেলা ক্রিকেট সংস্থা গঠনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ শুধু স্থানীয় পর্যায়ে একটি সংগঠন তৈরি করলেই সেটি বিসিবির সাংগঠনিক কাঠামোর অংশ হয়ে যায় না।
সংবিধানের ৬.৪ অনুচ্ছেদেও অধিভুক্ত ক্রিকেট সংস্থাগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বিসিবির হাতে থাকার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বোর্ডের মাধ্যমে গঠিত আঞ্চলিক ও জেলা ক্রিকেট সংস্থাসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্বীকৃতি, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও সেখানে স্পষ্ট করা হয়েছে।
জেলা ক্রিকেট সংস্থার কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট শর্ত। বিসিবির সংবিধানের ৯.১(খ) অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জেলা ক্রিকেট সংস্থাকে বোর্ড অনুমোদিত নীতিমালা ও বিধিমালা অনুসরণ করে গঠিত হতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় ক্রিকেট লীগ, জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপ, জাতীয় যুব ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেটসহ বিসিবি আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
শুধু জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াই যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে নিয়মিত ক্রিকেট লীগ পরিচালনার দায়িত্বও জেলা ক্রিকেট সংস্থার কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরি, প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের পরিবেশ সৃষ্টি এবং জাতীয় পর্যায়ের জন্য প্রতিভা বাছাইয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য রয়েছে।
বিসিবির সংবিধানে একটি বিশেষ পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ রয়েছে। কোনো জেলায় জেলা ক্রিকেট সংস্থার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সুবিধা গড়ে না ওঠা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে জেলা ক্রিকেট সংস্থা হিসেবে গণ্য করার বিধান রয়েছে। ফলে জেলার ক্রিকেট প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো অনুসরণের প্রয়োজন রয়েছে।
বিসিবি তাই স্পষ্ট করেছে, শুধু নামের সঙ্গে ‘জেলা ক্রিকেট সংস্থা’ যুক্ত করা কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেট নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করলেই কোনো প্রতিষ্ঠান বোর্ডের স্বীকৃতি পাবে না। বিসিবির অনুমোদন, সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধান এবং প্রযোজ্য নীতিমালা ও বিধিমালা অনুসরণ করে গঠিত সংস্থাই কেবল ‘জেলা ক্রিকেট সংস্থা’ হিসেবে স্বীকৃত বা অনুমোদিত হবে।
বোর্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, অনুমোদন বা স্বীকৃতি ছাড়া কোনো সংগঠন নিজেদের জেলা ক্রিকেট সংস্থা হিসেবে দাবি করলে সেটিকে বিসিবির সংবিধানবিরোধী ও অবৈধ সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেট আয়োজন বা সংগঠন পরিচালনার নামে কোনো পক্ষ যাতে বিসিবির সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়েও বোর্ডের অবস্থান পরিষ্কার হলো।
এই অবস্থান জেলা পর্যায়ের ক্রিকেট প্রশাসনে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বিসিবির অনুমোদিত কাঠামোর বাইরে তৈরি হওয়া সংগঠন নিয়ে বিভ্রান্তি কমানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।









