আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযানে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক রাজ্যেশ্বর দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি নিয়মিত মামলায় পলাতক থাকার পর নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ৬৫ বছর বয়সী রাজ্যেশ্বর দাশ সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের সরাফপুর গ্রামের মৃত কাত্তিক চন্দ্র দাসের ছেলে। রাজনৈতিক ময়দানে তিনি বেশ সক্রিয় ছিলেন এবং জেলা কমিটির অর্থবিষয়ক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিভিন্ন মামলার জেরে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। গত মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশাশুনি থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল সরাফপুর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালায়। দীর্ঘদিন ধরে মামলার পলাতক আসামি হিসেবে তিনি লুকিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে পারেননি।
অভিযান পরিচালনাকারী দল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতের ওই গোপনীয় অভিযানে পুলিশ সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে তার বাড়িতে প্রবেশ করে। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি ও ঘিরে রাখার পর বাড়ির ভেতর থেকেই তাকে আটক করা হয়। আটকের পর তাকে রাতেই থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করা হয়।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আরিফ গণমাধ্যমের কাছে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাজ্যেশ্বর দাশের বিরুদ্ধে থানায় একটি নির্দিষ্ট মামলা রয়েছে এবং তিনি ওই মামলার পলাতক আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশি দল সাহসিকতার সঙ্গে তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে সফলভাবে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বুধবার সকালে তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। মামলার সামগ্রিক দিক এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত তাকে জামিন না দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ তাকে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে নিয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে এবং ঘটনার বিস্তারিত উদ্ঘাটনে তাদের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সব অপরাধীর বিরুদ্ধে এমন আইনি পদক্ষেপ নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি।









