সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আর আকস্মিক দুর্ঘটনার কারণে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। নাজিরারটেক পয়েন্ট সংলগ্ন সমুদ্র মোহনায় বিদেশি পর্যটকবাহী একটি নৌকা ডুবে নিখোঁজ হওয়া নিউজিল্যান্ডের কিশোর আলবার্ট জংয়ের মরদেহ দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার ঠিক একদিন পর স্থানীয় মানুষের তথ্যের ভিত্তিতে সমুদ্র উপকূল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই আকস্মিক ট্র্যাজেডিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজারের নাজিরারটেক ও সোনাদিয়া মোহনা এলাকার মধ্যবর্তী সাগরে প্রচণ্ড ঢেউয়ের প্রবল ধাক্কায় বিদেশি পর্যটকদের বহনকারী নৌকাটি আকস্মিকভাবে ডুবে যায়। নৌকাটিতে নিউজিল্যান্ড থেকে আসা একটি পর্যটক পরিবারের চার সদস্য ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় নৌকার সবাই পানিতে ছিটকে পড়েন। ওই দিন স্থানীয় জেলেরাও তৎক্ষণাৎ তৎপরতা চালিয়ে পরিবারের তিন সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে ১৩ বছর বয়সী কিশোর আলবার্ট জং নিখোঁজ থাকে।
উদ্ধার হওয়া বাকি তিন সদস্য হলেন এডওয়ার্ড, তার স্ত্রী বেলা এবং ১৩ বছর বয়সী রালফ। ঘটনার দিন স্থানীয়দের মাধ্যমে প্রাথমিক উদ্ধার ও চিকিৎসার পর তাদের কোস্টগার্ডের হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।
এদিকে কিশোর আলবার্ট নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই মঙ্গলবার রাতে উদ্ধার অভিযানে নামে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের বিশেষ ডুবুরি দল। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তীতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিক জাহাজ ‘শাপলা’ এবং একটি দ্রুতগতির উদ্ধারকারী বোটও এই তল্লাশি অভিযানে যুক্ত হয়। সারারাত ও দিনভর সাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হলেও তখন তার কোনো সন্ধান মেলেনি। অবশেষে বুধবার বিকেলে কক্সবাজারের সমিতি পাড়া সমুদ্র উপকূলে একটি মরদেহ ভেসে আসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিউজিল্যান্ড থেকে আগত এই পর্যটক পরিবারটি বেশ কিছুদিন ধরেই কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছিল। কক্সবাজার জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তাদের পাসপোর্টের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য তারা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক এমন একটি সময়ে সাগরের আকস্মিক রোষানলে পড়ে এই বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
যদিও পরিবারটি ঠিক কতদিন ধরে সাগরের কাছাকাছি নৌকায় বসবাস করছিল, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস ও যাতায়াতের সময় ছোট নৌকায় এ ধরনের আকস্মিক দুর্ঘটনা রোধে আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। মর্মান্তিক এই ঘটনায় বিদেশি পর্যটক পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।









