টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে টানা তিন ম্যাচ জয়ের পর চতুর্থ ম্যাচে এসে হারের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ এইচপি। অ্যাডিলেড একাডেমির বিপক্ষে ১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৪৩ রানেই অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের শেষদিকে মাত্র ৮ বলের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন আরিফুল ইসলাম। এক প্রান্ত আগলে রেখে ৬৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও সতীর্থদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় তাঁর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
ডারউইনের মারারা ওভালে রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম বলেই জিসান আলমকে হারায় দলটি। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে। সাব্বির রহমান ৮ বলে ৫ রান এবং অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর ৭ বলে ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। মাত্র ১৭ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এরপর আরিফুল ইসলামের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। দুজন মিলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও শামীম ১৮ বলে ১৮ রান করে আউট হলে আবারও বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। আরিফুল তখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দ্রুত একের পর এক উইকেট হারানোয় ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় দলটি।
শেষ ৮ বলের মধ্যেই আরও ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ এইচপি। ফলে ২০ ওভার শেষ হওয়ার আগেই ১৪৩ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। ৬৬ রানের ইনিংসটি আরিফুলের ব্যক্তিগত সংগ্রহকে উজ্জ্বল করলেও দলের জয়ের জন্য তা যথেষ্ট হয়নি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে অ্যাডিলেড একাডেমি শুরুটা ভালোই করেছিল। উদ্বোধনী জুটিতে ৩৪ রান যোগ করে তারা। চতুর্থ ওভারে কন্নর ক্যারলকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের মিস্ট্রি স্পিনার রুবেল। পরের ওভারেই জের্সিস ওয়াদিয়াকে বোল্ড করে দ্রুত দ্বিতীয় উইকেট এনে দেন আবু হায়দার রনি।
বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে এরপর নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে অ্যাডিলেড একাডেমি। তবে এক প্রান্তে দৃঢ়তা দেখান হেনরি হান্ট। ২৯ বলে ৩৫ রান করে তিনি দলের ইনিংসকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শেষদিকে অ্যাডিলেড একাডেমির অন্য ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে না পারায় নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৪ রানেই থামে তাদের সংগ্রহ।
বাংলাদেশ এইচপির বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন আবদুল গাফফার সাকলাইন। তিনি ৪টি উইকেট নেন। রুবেল শিকার করেন ৩ উইকেট। আবু হায়দার রনি ও রাকিবুল পান একটি করে উইকেট।
১৬৫ রানের লক্ষ্য টি-টোয়েন্টিতে খুব বড় না হলেও শুরুতেই উইকেট হারানো এবং মাঝ ওভারে জুটি গড়তে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশের রান তাড়াকে কঠিন করে দেয়। আরিফুলের একক লড়াই শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের কাছে নিতে পারেনি।
এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে টানা তিন ম্যাচ জয়ের ধারাও থামল বাংলাদেশ এইচপির। এর আগে সিরিজে টানা তিনটি জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগোচ্ছিল দলটি। চতুর্থ ম্যাচের হার তাই তাদের জন্য যেমন হতাশার, তেমনি ব্যাটিংয়ের শেষ দিকের ধস থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও হয়ে থাকল।









