সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে শিউলী রানি (২৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় সুনামগঞ্জ ও সিলেটের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের জানিগাঁও এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিউলী রানি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বসন্তপুর এলাকার বাসিন্দা গোবিন্দ দাসের স্ত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতে সিলেট থেকে একটি লোকাল বাস যাত্রী নিয়ে সুনামগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। বাসটি সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের জানিগাঁও এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। একপর্যায়ে বাসটি উলটে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। বাসের জানালার কাচ ভেঙে তাঁরা আটকে থাকা ও আহত যাত্রীদের বের করে আনেন। পরে গুরুতর আহত অন্তত ২০ জনকে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে দুর্ঘটনার সময় বাসের ভেতরে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই শিউলী রানি মারা যান। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান এবং বাসের ভেতর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন। উদ্ধার করা মরদেহ পরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং বাসটির চালকের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মহাসড়কের ওই অংশে বাসটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।









