জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

ভারত সিরিজে শক্তিশালী দল নিয়ে আফগানিস্তান

ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে শক্তিশালী ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে আফগানিস্তান। দলের নেতৃত্বে এবার নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন ইবরাহিম জাদরান। প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে আফগানিস্তানকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠেয় এই সিরিজে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল সাজিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

সিরিজের তিনটি ম্যাচই হবে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে। সূচি অনুযায়ী ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ১৩, ১৫ ও ১৭ সেপ্টেম্বর। ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হিসেবেও সিরিজটিকে দেখছে আফগানিস্তান।

দলে সবচেয়ে আলোচিত প্রত্যাবর্তন নবীন-উল হকের। ডান কাঁধের চোটের কারণে কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকার পর জাতীয় দলে ফিরেছেন এই পেসার। চোটের কারণে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তিনি খেলতে পারেননি। তাঁর প্রত্যাবর্তন আফগানিস্তানের পেস আক্রমণে বাড়তি শক্তি যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। দলে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ফজল হক ফারুকি ও আবদুল্লাহ আহমেদজাই।

স্পিন বিভাগেও আফগানিস্তানের বড় ভরসা রয়েছে। বিশ্বমানের লেগস্পিনার রশিদ খান দলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। তাঁর সঙ্গে থাকছেন নুর আহমেদ, মুজিব-উর রহমান ও নানগেলিয়া খারোত। ভারতের কন্ডিশনে স্পিনারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রান আটকে রাখার দায়িত্বও তাদের ওপর থাকবে।

ব্যাটিং বিভাগে রহমানউল্লাহ গুরবাজকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হিসেবে তিনিই প্রথম পছন্দ। তাঁর বিকল্প হিসেবে রয়েছেন নুর রহমান। দলে অভিজ্ঞতার জায়গাটি শক্ত করেছেন মোহাম্মদ নবি ও গুলবাদিন নাইব। দুজনেরই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং চাপের মুহূর্তে দলের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখার সামর্থ্যও আছে।

অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাইও দলের ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই অবদান রাখার সক্ষমতা থাকায় তাঁর উপস্থিতি একাদশ নির্বাচনে বাড়তি বিকল্প তৈরি করবে। সেদিকুল্লাহ অটল ও দারউইশ রাসুলির মতো ক্রিকেটারদেরও ব্যাটিংয়ে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ থাকবে।

আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিব খান জানিয়েছেন, দল নির্বাচনের সময় ভারসাম্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যাটিং ও বোলিংয়ের পাশাপাশি পেস ও স্পিন আক্রমণের মধ্যে সমন্বয় রাখা এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সঙ্গে তরুণদের মেলানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

ইবরাহিম জাদরানের জন্য সিরিজটি ব্যক্তিগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত নেতৃত্বের বাইরে থেকে এবার অধিনায়ক হিসেবে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মাঠ পরিচালনা এবং চাপ সামলানোর দক্ষতা নজরে থাকবে। অন্যদিকে, ভারতের মাটিতে খেলা আফগান ক্রিকেটারদের জন্যও কঠিন পরীক্ষা। স্বাগতিক দলের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে তাদের বোলিং পরিকল্পনা এবং পাওয়ারপ্লেতে ব্যাটিংয়ের শুরুটা সিরিজের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আফগানিস্তানের ১৫ সদস্যের দল: ইবরাহিম জাদরান (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), নুর রহমান (উইকেটরক্ষক), রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, সেদিকুল্লাহ অটল, দারউইশ রাসুলি, নবীন-উল হক, ফজল হক ফারুকি, আবদুল্লাহ আহমেদজাই, মুজিব-উর রহমান, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, গুলবাদিন নাইব, নুর আহমেদ ও নানগেলিয়া খারোত।

ভারতের বিপক্ষে সিরিজে তাই আফগানিস্তানের লক্ষ্য শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নয়; নিজেদের পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে বড় মঞ্চে সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়াও। দিল্লির তিন ম্যাচে অধিনায়ক ইবরাহিম জাদরানের নেতৃত্ব এবং রশিদ-নবীনদের পারফরম্যান্সের দিকে থাকবে বিশেষ নজর।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর