রাজশাহী বিভাগে দুই মন্ত্রী, চার প্রতিমন্ত্রী ও এক উপদেষ্টা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয় লাভের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা। এই নতুন সরকারে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত রাজশাহী বিভাগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২৮টিতে জয়লাভ করেছে, যেখানে রাজশাহী ও বগুড়া জেলাকে দলটির দুর্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অবশিষ্ট ১১টি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট। নির্বাচনী ফলাফলের প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী বিভাগ থেকে দুই জন পূর্ণমন্ত্রী, চার জন প্রতিমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় এক জন উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়েছেন।


মন্ত্রিপরিষদে রাজশাহী বিভাগের প্রতিনিধিত্ব

বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলো থেকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে। নিচে তাদের নাম, নির্বাচনী এলাকা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ের তালিকা দেওয়া হলো:

নামনির্বাচনী এলাকাপদমর্যাদাদায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়/দপ্তর
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসিরাজগঞ্জ-২পূর্ণমন্ত্রীবিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
মিজানুর রহমান মিনুরাজশাহী-২পূর্ণমন্ত্রীভূমি মন্ত্রণালয়
মীর শাহে আলমবগুড়া-২প্রতিমন্ত্রীস্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
ফারজানা শারমিন পুতুলনাটোর-১প্রতিমন্ত্রীমহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
মোহাম্মদ আব্দুল বারীজয়পুরহাট-২প্রতিমন্ত্রীজনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
ড. এম এ মুহিতসিরাজগঞ্জ-৬প্রতিমন্ত্রীস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
রেহান আসিফ আসাদরাজশাহী (গোদাগাড়ী)উপদেষ্টাপ্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা)

রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জের বিশেষ অর্জন

রাজশাহী মহানগরী দীর্ঘ ৪৬ বছর পর একজন পূর্ণমন্ত্রী পেয়েছে। সর্বশেষ ১৯৭৯ সালে এমরান আলী সরকার এই আসন থেকে ত্রাণ মন্ত্রী হয়েছিলেন। মিজানুর রহমান মিনু, যিনি টানা ১৭ বছর রাজশাহী সিটির মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাকে ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার এই নিয়োগে রাজশাহী নগরীতে আনন্দের জোয়ার বইছে। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন, যা উত্তরাঞ্চলের শিল্পায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়

এবারের মন্ত্রিসভায় যেমন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ রয়েছেন, তেমনি এসেছেন নতুন মুখ। নাটোর-১ আসন থেকে নির্বাচিত ফারজানা শারমিন পুতুল উত্তরাঞ্চলের ৭২টি আসনের মধ্যে একমাত্র নারী সংসদ সদস্য হিসেবে মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। তিনি পেশায় একজন আইনজীবী এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের কন্যা। একইভাবে সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত ড. এম এ মুহিত প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মোহাম্মদ আব্দুল বারী (সাবেক ডিসি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় সরকারি কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে নির্বাচিত মীর শাহে আলম তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে এসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

উন্নয়ন ও জনপ্রত্যাশা

রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও নওগাঁ জেলা থেকে কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান না পেলেও ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু আশ্বস্ত করেছেন যে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো জেলাকেই বৈষম্য করা হবে না। তিনি বলেন, “বিএনপি সবসময় সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী। কোনো জেলা থেকে মন্ত্রী না থাকার অর্থ এই নয় যে সেই জেলা অবহেলিত হবে।”

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত মনে করেন, এই সাতজন প্রতিনিধির ওপর রাজশাহী বিভাগের মানুষের অনেক প্রত্যাশা। বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি, সিরাজগঞ্জের শিল্প এবং উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে এই মন্ত্রিসভা মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।