জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বাড়াতে সচিব পর্যায়ে আলোচনা

ভারত থেকে বর্তমানে চলমান প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ধারাবাহিকতায় এ খাতে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ। ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান শক্তি খাতের সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং নতুন নতুন ক্ষেত্রে যৌথ কাজের সুযোগ নিয়ে সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চলতি আগস্ট মাসের শুরুর দিকে ভারত সফরে যান বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ। সফরের অংশ হিসেবে তিনি দেশটির বিদ্যুৎ সচিব পঙ্কজ আগরওয়ালের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। এই বৈঠকে বিদ্যুৎ আমদানি বৃদ্ধি এবং সার্বিক আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য গতিশীল করার ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ কথা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সফর শেষ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিজনেস ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, “আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও নতুন সম্ভাবনা নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আশা করছি এই দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় ও কার্যকরী রূপ নেবে।”

ভারতের প্রতিনিধি দলের একজন মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রতিষ্ঠিত কাঠামোগত ব্যবস্থা ও বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দুই দেশ বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক সম্পৃক্ততা জোরদারে একমত হয়েছে। সফরকালীন বৈঠকে শুধু বিদ্যুৎ আমদানি বৃদ্ধিই নয়, বরং আঞ্চলিক সঞ্চালন লাইন বা গ্রিড সংযোগ জোরদারকরণ, মেগা প্রজেক্ট হিসেবে পরিচিত মৈত্রী বিদ্যুৎ প্রকল্প (রামপাল) এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয় স্থান পায়।

বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট ২ হাজার ৭৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। এ ছাড়া নেপালের সঙ্গে রয়েছে ৪০ মেগাওয়াটের একটি পৃথক আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য চুক্তি। পৃথক দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে ভারতের সরকারি ও বেসরকারি শীর্ষ স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার, সরকারি সংস্থা এনটিপিসি, সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া ও পিটিসি ইন্ডিয়া থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নেয় বাংলাদেশ। বিশেষ করে আদানির ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত গড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকেই গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ৮ হাজার ৩০ মিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

দুই দেশের দীর্ঘদিনের যৌথ কাজের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সচিব মিরানা মাহরুখ জানান, “দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে, বিশেষ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে আসছি। বর্তমানে চলমান প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের বিভিন্ন প্রকল্পে এই সহযোগিতা বিস্তৃত রয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাটের রামপালে নির্মিত মৈত্রী বিদ্যুৎ প্রকল্প আমাদের জাতীয় বিদ্যুৎ খাতের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।”

ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক পরিকল্পনার বিষয়ে বিদ্যুৎ সচিব স্পষ্ট জানান, বাংলাদেশ এখন বিদ্যুৎ আমদানির পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি সংযোগ বা রিজিনাল এনার্জি গ্রিড জোরদার করার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে বিবিআইএন (বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল) কাঠামোর আওতায় চারদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্য উদ্যোগকে দ্রুত বাস্তবে রূপ দিতে আগ্রহী ঢাকা।

এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্লিন এনার্জি বা পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের মোট সরবরাহ বাড়াতে পারে এমন নতুন কিছু সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়েও আলোকপাত করা হয়েছে। ভারত বর্তমানে গ্রিন এনার্জি, সৌরশক্তি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি গবেষণায় বেশ এগিয়ে রয়েছে। ভারতীয় এই কারিগরি পারদর্শিতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে যৌথভাবে ক্লিন এনার্জি প্রকল্পে অংশীদার হতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব উপায়ে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কয়লা পোড়ানোর পর উপজাত বস্তুগুলোকে (যেমন ফ্লাই অ্যাশ) পুনর্ব্যবহারের প্রযুক্তিগত দিক নিয়েও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর