ইউরোপের শীর্ষ লিগে ফুটবলার সরবরাহে শীর্ষে বার্সেলোনার একাডেমি

ফুটবলার তৈরির কারিগর হিসেবে পরিচিত ক্লাবগুলোর কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কিছু ক্লাব নিজেরা শিরোপা জেতার পাশাপাশি অন্য ক্লাবগুলোর জন্যও মানসম্মত খেলোয়াড় জোগান দিচ্ছে। এই গবেষণায় ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ—ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, স্পেনের লা লিগা, জার্মানির বুন্দেসলিগা, ইতালির সিরি আ এবং ফ্রান্সের লিগ আঁ-তে বর্তমানে খেলছেন এমন ফুটবলারদের উৎস খুঁজে বের করা হয়েছে।

বার্সেলোনার ‘লা মাসিয়া’র অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠত্ব

খেলোয়াড় তৈরির এই লড়াইয়ে বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। তাদের বিখ্যাত একাডেমি ‘লা মাসিয়া’ ফুটবল বিশ্বকে উপহার দিয়েছে লিওনেল মেসি, জাভি হার্নান্দেজ ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার মতো কিংবদন্তি। বর্তমানেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে লামিনে ইয়ামাল, গাভি বা পাউ কুবার্সিদের হাত ধরে। সিআইইএসের তথ্যমতে, বার্সেলোনার একাডেমিতে গড়ে ওঠা অন্তত ৪০ জন ফুটবলার বর্তমানে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের বিভিন্ন ক্লাবে পেশাদার ফুটবল খেলছেন।

তালিকায় রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজির অবস্থান

অনেকের ধারণা রিয়াল মাদ্রিদ কেবল বড় অংকের অর্থে তারকা খেলোয়াড় কেনে। তবে পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। রিয়াল মাদ্রিদের যুব একাডেমি ‘লা ফাব্রিকা’ থেকেও উঠে আসছেন অসংখ্য প্রতিভাবান খেলোয়াড়। বর্তমানে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে রিয়াল মাদ্রিদের তৈরি করা ৩৫ জন ফুটবলার খেলছেন। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। তাদের একাডেমি থেকে উঠে আসা ৩১ জন খেলোয়াড় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ইউরোপীয় মঞ্চে।

ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলোয়াড় সরবরাহে শীর্ষ পাঁচ ক্লাবের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

ক্রমিকক্লাবের নামদেশসরবরাহকৃত খেলোয়াড় সংখ্যা
বার্সেলোনাস্পেন৪০
রিয়াল মাদ্রিদস্পেন৩৫
পিএসজিফ্রান্স৩১
রেনেফ্রান্স২৯
লিওঁফ্রান্স২৮

চমক দেখাচ্ছে ফরাসি একাডেমিগুলো

তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে হাজির হয়েছে ফরাসি ক্লাব রেনে। বড় কোনো শিরোপা বা গ্ল্যামার না থাকলেও খেলোয়াড় তৈরির মানদণ্ডে তারা চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বা ম্যানচেস্টার সিটির মতো পরাশক্তিদের পেছনে ফেলে দিয়েছে। ২৯ জন খেলোয়াড় সরবরাহ করে তারা তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এছাড়া শীর্ষ দশে আর্সেনাল ও রিয়াল সোসিয়েদাদের মতো ক্লাবের নামও গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে।

বৈশ্বিক মানদণ্ড ও খেলার সময়কাল

গবেষণায় কেবল খেলোয়াড় সংখ্যাই নয়, বরং তারা মাঠে কত মিনিট সময় কাটাচ্ছেন তার ওপর ভিত্তি করেও একটি র‍্যাঙ্কিং করা হয়েছে। এক্ষেত্রে রিয়াল মাদ্রিদ শীর্ষে রয়েছে, যার অর্থ তাদের তৈরি করা খেলোয়াড়রা বিভিন্ন ক্লাবে মূল একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন। গত এক দশকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজি—এই তিন ক্লাব ইউরোপীয় ফুটবলের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ইউরোপের বাইরে থেকে ফ্ল্যামেঙ্গো, রিভার প্লেট এবং আয়াক্সের মতো ক্লাবগুলোও বিশ্বমানের প্রতিভা তৈরির বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।