স্প্যানিশ লা লিগায় শিরোপা ধরে রাখার অভিযানের শুরুতেই শক্তির জানান দিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক এলচেকে ৫-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে কাতালান ক্লাবটি।
এদিন বার্সেলোনার জয়ের মূল নায়ক ছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া ও তরুণ মিডফিল্ডার ফেরমিন লোপেস। দুজনই করেছেন জোড়া গোল। নতুন মৌসুমে দলটির আক্রমণভাগের গভীরতা ও বিকল্প খেলোয়াড়দের কার্যকারিতারও প্রমাণ মিলেছে ম্যাচটিতে। ক্লাবের হয়ে অভিষেকেই গোল করেছেন নতুন সাইনিং করিম আদেইয়েমি। বদলি হিসেবে নেমে অ্যান্থনি গর্ডনও জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন দুটি অ্যাসিস্ট করে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে এলচের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে থাকে বার্সেলোনা। সেই চাপের ফল আসে ১৪ মিনিটে। বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় সফরকারীরা। স্পট কিক থেকে নিখুঁতভাবে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন রাফিনিয়া।
প্রথম গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি বার্সেলোনা। এলচে নিজেদের মাঠে খেললেও বার্সেলোনার দ্রুত পাসিং ও আক্রমণের গতি সামলাতে বেশ সমস্যায় পড়ে। প্রথমার্ধের শেষদিকে ব্যবধান আরও বাড়ায় অতিথিরা। রাফিনিয়ার বাড়ানো পাস কাজে লাগিয়ে গোল করেন আদেইয়েমি। নতুন ক্লাবের জার্সিতে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই গোল পাওয়ায় তাঁর অভিষেকটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
বিরতির পর বার্সেলোনার আক্রমণে আরও গতি যোগ হয়। বদলি হিসেবে মাঠে নামেন অ্যান্থনি গর্ডন। মাঠে আসার পর খুব বেশি সময় নেননি নিজের প্রভাব রাখতে। তাঁর দেওয়া দুটি নিখুঁত পাস থেকে রাফিনিয়া ও ফেরমিন লোপেস পরপর গোল করেন।
রাফিনিয়ার দ্বিতীয় গোলের পর ফেরমিনের গোলেই স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০। এলচে তখন ম্যাচে ফেরার মতো অবস্থায় ছিল না। বার্সেলোনার চাপ সামলাতে গিয়ে স্বাগতিকদের রক্ষণ বারবার ভেঙে পড়ছিল। মাঝমাঠে বলের দখল ধরে রেখে সফরকারীরা একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যায়।
ম্যাচের শেষ দিকে ফেরমিন নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন। তরুণ জাভি এস্পার্তের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে তা জালে পাঠান তিনি। ফলে বার্সেলোনার জয় দাঁড়ায় ৫-০ ব্যবধানে।
ম্যাচটিতে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ যেমন কার্যকর ছিল, তেমনি দলের রক্ষণও স্বাগতিকদের কোনো গোলের সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি। গোল না খেয়ে পাঁচ গোলের জয় দিয়ে লিগ অভিযান শুরু করা ফ্লিকের দলের জন্য এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো ফল।
বিশেষ করে রাফিনিয়ার জোড়া গোল এবং ফেরমিনের দুই গোল বার্সেলোনার আক্রমণভাগের শক্তি তুলে ধরেছে। অন্যদিকে আদেইয়েমির অভিষেক গোল এবং গর্ডনের দুটি অ্যাসিস্ট দেখিয়েছে, মূল একাদশের বাইরেও দলের হাতে কার্যকর বিকল্প রয়েছে।
শিরোপা ধরে রাখার দীর্ঘ মৌসুমে এমন দারুণ শুরু বার্সেলোনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচেই পাঁচ গোলের জয় শুধু তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেনি, দলের আক্রমণাত্মক সামর্থ্য এবং নতুন খেলোয়াড়দের দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও সামনে এনেছে। এলচের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্সের পর নতুন মৌসুমে বার্সেলোনাকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ আরও বাড়বে।









