রংপুরের পীরগঞ্জে প্রকাশ্য দিবালোকে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। চার বছরের এক কোলের শিশুর গলায় ধারালো ছুরি ঠেকিয়ে এক নারী শিক্ষিকার দেড় লাখ টাকার বেশি মূল্যের সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মকিমপুর গ্রামে পীরগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের পাশে পুষ্টি অফিসের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মকিমপুর ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা. শামীমা আক্তার প্রতিদিনের মতো আজও তার বিদ্যালয়ের দায়িত্ব শেষ করেন। বিকেল পৌনে চারটার দিকে তিনি কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে একটি অটোরিকশায় চড়ে নিজ বাড়ির দিকে রওনা দেন। তাদের বহনকারী অটোরিকশাটি মকিমপুর গ্রামের পীরগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের কাছাকাছি পুষ্টি অফিসের সামনে পৌঁছামাত্র পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলে আসা দুই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি অটোরিকশার পথরোধ করে।
মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক পরিস্থিতিতে ছিনতাইকারীরা অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের একজনের হাতে ছিল ধারালো অস্ত্র। দুর্বৃত্তরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিক্ষিকা শামীমা আক্তারের কোলে থাকা চার বছর বয়সী শিশু কন্যা তিয়াশা জান্নাতের গলায় ধারালো ছুরি ধরে। এ সময় তারা অত্যন্ত ভয়ংকর ভঙ্গিতে হুমকি দিয়ে বলে, ‘কার কাছে যা আছে দ্রুত দিয়ে দিন, নইলে বাচ্চাকে শেষ করে ফেলব।’
সহায় সম্বলহীন কোলের শিশুর গলায় এমন ধারালো অস্ত্র ঠেকানোর দৃশ্য দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন শিক্ষিকা ও তার সঙ্গে থাকা অন্য সহকর্মীরা। ভয়ে তারা অটোরিকশার ভেতরেই কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করেন। কিন্তু জনাকীর্ণ ওই এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটায় কেউ এগিয়ে আসার সুযোগ পাওয়ার আগেই দুর্বৃত্তরা তাদের কাজ সেরে নেয়।
অভিযোগে প্রকাশ, আতঙ্কিত অবস্থার সুযোগ নিয়ে ছিনতাইকারীরা শামীমা আক্তারের গলায় থাকা প্রায় ১ ভরি ১ আনা ওজনের একটি সোনার চেইন সজোরে টান দিয়ে ছিঁড়ে নেয়। স্থানীয় বাজারমূল্য অনুযায়ী ছিনিয়ে নেওয়া ওই স্বর্ণালংকারটির দাম প্রায় আড়াই লাখ টাকার কাছাকাছি। চেইনটি ছিনিয়ে নেওয়ার পরপরই দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল স্টার্ট দিয়ে চোখের পলকে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
দিনের আলোয় এমন প্রকাশ্য ছিনতাইয়ের ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন শিক্ষিকা শামীমা আক্তার এবং তার সঙ্গে থাকা সহকর্মীরা। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তারা দ্রুত পীরগঞ্জ থানায় উপস্থিত হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা শামীমা আক্তার নিজে বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দুই দুষ্কৃতকারীকে আসামি করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।









