পাঁচ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পল্লবী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. শফিকুল ইসলাম (৪৩) ও তাঁর সহযোগী ওয়াসিমকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণখান থানা পুলিশ। গোপন খবরের ভিত্তিতে গত রবিবার দিবাগত রাতে উত্তরার আজমপুর কাঁচাবাজার ও বিসমিল্লাহ পল্লী এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এই মাদক চক্রটিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দক্ষিণখান থানা সূত্রের খবর, আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ ইয়াবা কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে বলে তথ্য পায় পুলিশ। দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ওয়াসিম নামের এক তরুণ পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাঁকে ধরে ফেলা হয়। পরে তাঁর দেহ তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
আটক ওয়াসিমকে হেফাজতে নিয়ে দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, এই মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে রয়েছেন পল্লবী থানার এএসআই শফিকুল ইসলাম। ওয়াসিমের দেওয়া তথ্যের সূত্রে ধরে অদূরেই একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেই বাসা থেকে হাতেনাতে ২০০ পিস ইয়াবাসহ এএসআই শফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে এই মাদক কারবারের গভীরতা আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে। দুই আসামির কাছ থেকে পাওয়া নতুন তথ্যে গভীর রাতে বিসমিল্লাহ পল্লীর ৬৭ নম্বর ‘নূর বিল্ডিং’-এর একটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় দফায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। ওই ফ্ল্যাট থেকে আরও ৫ হাজার ১১০ পিস ইয়াবার একটি বড় চালান জব্দ করা সম্ভব হয়। তিন স্তরের এই পুরোদস্তুর অভিযানে উদ্ধারকৃত ইয়াবার সর্বমোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ হাজার ৩১০ পিসে।
এ বিষয়ে দক্ষিণখান থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহিনুর রহমান জানান, সোমবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেপ্তার দুজনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ঢাকার বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জামিন আবেদন বাতিল করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই গ্রেপ্তারকৃতরা অপরাধ স্বীকার করেছেন। তাঁরা জানান, টেকনাফ ও বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চল থেকে কৌশলে ইয়াবার চালান রাজধানী ঢাকায় আনা হতো। পরবর্তীতে উত্তরা, দক্ষিণখান ও পল্লবীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের তদারকিতে থাকা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এগুলো বিক্রি করা হতো।
আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার সরাসরি মাদক সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার খবর প্রকাশ্যে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক জানান, এএসআই শফিকুল ইসলাম থানায় অনিয়মিত হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি ওপরমহল পর্যন্ত অবহিত করা হয়েছে এবং ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









