চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রান্তিক কৃষকদের জিম্মি করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কৃষি উপকরণ বিক্রি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে অবৈধ সার মজুতের দায়ে এক সার ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার দুপুর ২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নে এই তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝিলিম বাজারের ‘মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে যৌথভাবে অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে স্থানীয় কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি করা হচ্ছিল। মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযোগ পেতেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে গুদামে সার মজুত করার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে ঝিলিম বাজারে ঝটিকা অভিযান চালান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তল্লাশি চালিয়ে দোকান ও সংলগ্ন গুদাম থেকে অবৈধভাবে জমা করে রাখা ২৫৯ বস্তা ইউরিয়া, ১০৬ বস্তা ডিএপি (ডায়অ্যামোনিয়াম ফসফেট) এবং ৪৫ বস্তা টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) সারের একটি বড় চালান উদ্ধার করা হয়।
আইন ভঙ্গ করার বিষয়টি হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ায় এবং রাসায়নিক সার ও সার নিয়ন্ত্রণ আদেশের নিয়মনীতি না মানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্সের মালিক নূর ইসলামকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং সেই জরিমানার অর্থ নগদ আদায় করা হয়। শুধু জরিমানাতেই অভিযান শেষ হয়নি; সাধারণ কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় সার পেতে পারেন, সেজন্য জব্দ করা মোট ৪১০ বস্তা সার স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যে খোলাবাজারে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। পরবর্তীতে সার বিক্রি করে পাওয়া সম্পূর্ণ অর্থ মূল মালিক নূর ইসলামকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ঝিলিম ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষকদের হয়রানি বন্ধ করতে এবং সারের বাজার স্বাভাবিক রাখতে মাঠপর্যায়ে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের এমন ঝটিকা পরিদর্শন কার্যক্রম নিয়মিত বজায় থাকবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা কৃষি অফিস এবং সদর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল যৌথভাবে এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব পালনসহ সার্বিক প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করে।









