জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

বিয়ের রাতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল যুবকের

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নববধূকে ঘরে তোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহমেদ আনাস বাপ্পি (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার নববধূকে ঘিরে বউভাতের আয়োজনের কথা থাকলেও তার আগেই আনন্দের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। বিয়ের রাতেই স্বামীকে হারিয়ে বিধবা হয়েছেন নববধূ সাইরা খাতুন (১৮)।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আনাস ওই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে। নববধূ সাইরা খাতুন উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদি আলীনগর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে।

পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আনাস ও সাইরার বিয়ে প্রায় দুই মাস আগে সম্পন্ন হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইরাকে আনাসের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। নববধূকে ঘিরে তখন পরিবারে ছিল উৎসবের আমেজ। পরদিন শুক্রবার দুপুরে বউভাতের আয়োজনও করা হয়েছিল।

বউভাত উপলক্ষে বাড়িতে অতিথিদের আপ্যায়নের প্রস্তুতি চলছিল। তৈরি করা হচ্ছিল প্যান্ডেল, চলছিল নানা ধরনের আয়োজন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনাসও রাত পর্যন্ত এসব কাজের তদারকিতে ছিলেন। কিন্তু রাত গভীর হওয়ার পর ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ২টার দিকে একটি স্ট্যান্ড ফ্যান সরানোর সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন আনাস। তিনি গুরুতর আহত হলে স্বজনেরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আনাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় পুরো পরিবেশ। কিছুক্ষণ আগেও যে বাড়িতে ছিল বিয়ের আনন্দ, অতিথিদের আনাগোনা এবং বউভাতের প্রস্তুতি, সেখানেই শুরু হয় কান্না ও আহাজারি। স্বামীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েন নববধূ সাইরা। পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও নেমে আসে গভীর শোক।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মিলন হোসেন জানান, স্ট্যান্ড ফ্যান থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই আনাসের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল এবং বৃহস্পতিবার নববধূকে বাড়িতে আনা হয়। পরদিন বউভাতের আয়োজন থাকলেও দুর্ঘটনায় সব আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

একটি বিয়ের আয়োজন যে এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় পরিণত হতে পারে, তা স্থানীয়দেরও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। বউভাতের জন্য প্রস্তুত করা আয়োজন শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে শোকের স্মৃতিতে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর