জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদনে ধস, সারাদেশে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি

দেশের বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হঠাৎ করে উৎপাদন বিপুল পরিমাণে কমে যাওয়ার কারণে ছুটির দিনেও রাজধানীসহ সারাদেশে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় জোগান না থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্ত পোহাতে হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকাতেই দিনে দুই থেকে চারবার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী সংস্থা পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর থেকেই বিদ্যুতের ঘাটতি দ্রুত বাড়তে থাকে এবং তা বিকেলে ও সন্ধ্যায় প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াটে গিয়ে পৌঁছে।

পিজিসিবি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শনিবার দিনজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক তৈরি হয়েছিল। রাত থেকে শুরু করে দিনভর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ছিল বেশ অপ্রতুল।

সময়জাতীয় চাহিদা (মেগাওয়াট)জাতীয় সরবরাহ (মেগাওয়াট)মোট ঘাটতি (মেগাওয়াট)
রাত ১২:০০ (শুক্রবার দিবাগত)১৬,১১৪১৪,৮১০১,৩০৪
রাত ০১:০০ (শুক্রবার দিবাগত)১৬,১৫৭১৪,০৫৩২,১০৪
রাত ০২:০০ (শুক্রবার দিবাগত)১৬,০১৫১৩,৯১৬২,০৯৯
রাত ০৩:০০ (শুক্রবার দিবাগত)১৫,৮৯৮১৩,৮৬৩২,০৩৫
দুপুর ০১:০০১৫,১০২১৪,৩১৬৭৮৬
দুপুর ০২:০০১৫,২৩০১৪,৫৬৩৬৬৭
বিকেল ০৩:০০১৫,৯৩৪১৪,০৪৩১,৮৯১
বিকেল ০৪:০০১৬,০২৪১৪,০৮৯১,৯৩৫
বিকেল ০৫:০০১৬,১৫৭১৪,২৭৩১,৮৮৪
সন্ধ্যা ০৬:০০১৬,৩৫০১৪,৪৫০১,৯০০

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কথা অনুযায়ী, এই মুহূর্তে দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো থাকলেও আসল সমস্যা দেখা দিয়েছে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে। বিশেষ করে ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি গড্‌ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি পটুয়াখালীর নরিংকো, পায়রা মেগা পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং কক্সবাজারের মাতারবাড়ী কেন্দ্রে একযোগে উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে চাপ সৃষ্টি হয়। উদাহরণস্বরূপ, মধ্যরাতে আদানির কেন্দ্র থেকে ১,৩০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় তা নেমে আসে ৯৫৫ মেগাওয়াটে। এছাড়া দিনের বড় অংশজুড়ে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। একই সঙ্গে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট এবং নরিংকো ও মাতারবাড়ী কেন্দ্র থেকে যৌথভাবে প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, কয়লা সরবরাহের সমস্যা ও কারিগরি জটিলতার কারণেই বড় কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। আদানির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা যত দ্রুত সম্ভব উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এদিকে রাজধানী ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) আওতাধীন এলাকায় শনিবার সর্বোচ্চ ২,৩৩৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি ছিল ২৫০ মেগাওয়াট। এতে করে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় দুই থেকে তিনবার লোডশেডিং করতে হয়েছে। অপরদিকে ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ১,৫০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি ছিল প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট। ফলে ডেসকোর আওতাভুক্ত এলাকার মানুষকে অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন কাটাতে হয়। ঢাকার বাইরের জেলা ও গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও অনেক বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর